রাবিতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘ব্যবস্থা নেওয়ার’ মন্তব্য: রাকসুর সব কর্মসূচি বর্জনের ঘোষণা তিন সাংবাদিক সংগঠনের
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ সাংবাদিকদের সম্পর্কে প্রকাশ্যে “জড়ো করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে”—এমন মন্তব্য করার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক মহলে। এর প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি সাংবাদিক সংগঠন রাকসুর সব ধরনের কর্মসূচি বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে এবং ভিপিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (রাবিসাস), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি (রুরু) যৌথ প্রতিবাদলিপিতে জানায়, ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের বক্তব্য স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক এবং তা সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
কী ঘটেছিল
ঘটনার সূত্রপাত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সংঘর্ষ ও পরবর্তী সহিংসতার সংবাদ প্রকাশকে ঘিরে।
২৮ জুলাই রাকসুর এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা ওই ঘটনার বিষয়ে প্রশ্ন করলে ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ অভিযোগ করেন, কয়েকজন সাংবাদিক সংবাদে “হামলা” শব্দ ব্যবহার করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,
“এই সাংবাদিক এখানেও অনেকে আছে। আমরা সেগুলো জড়ো করে করে এখানে ব্যবস্থা নেবো।”
এছাড়া তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে আরও বলেন,
“আপনারা বলেছেন আমরা হামলা করেছি। তারা হামলা করেছে, আমরা প্রতিরোধ করেছি। আপনারা এত মায়াকান্না দেখান কেন ছাত্রলীগের প্রতি?”
এই বক্তব্যের ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।
সাংবাদিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ
যৌথ প্রতিবাদলিপিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন—
- সংবাদ প্রকাশ নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবাদ জানানো যেতে পারে;
- কিন্তু সাংবাদিকদের রাজনৈতিকভাবে ট্যাগিং করা, হুমকি দেওয়া কিংবা “ব্যবস্থা নেওয়ার” ঘোষণা দেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী;
- ছাত্র সংসদ বা তার কোনো প্রতিনিধি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিকল্প হতে পারে না;
- এ ধরনের বক্তব্য সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনে ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করে।
তারা ঘোষণা দেন, মোস্তাকুর রহমান জাহিদ প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত তিন সংগঠনের সদস্যরা রাকসুর সব কার্যক্রমের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ থেকে বিরত থাকবেন। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা না চাইলে সারা দেশের সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানানো হয়।
টেলিভিশন সাংবাদিকদের উদ্বেগ
ঘটনার পৃথক প্রতিক্রিয়ায় রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (আরটিজেএ) এক বিবৃতিতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা, হুমকি বা ভয়ভীতি প্রদর্শনকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে।
সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্তের আহ্বান জানায় এবং ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেবেন বলে আশা প্রকাশ করে।
FoEBD পর্যবেক্ষণ
নির্বাচিত ছাত্রনেতা বা অন্য কোনো ব্যক্তি সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশের কারণে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ এনে “ব্যবস্থা নেওয়ার” ঘোষণা দিলে তা সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীন পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। কোনো প্রতিবেদনে আপত্তি থাকলে তার প্রতিকার আইনসম্মত ও প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে হওয়া উচিত; সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে প্রকাশ্য হুমকি বা ভয়ভীতি প্রদর্শন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
তথ্যসূত্র
- বাংলা ট্রিবিউন — রাকসুর সব কর্মসূচি বর্জনের ঘোষণা সাংবাদিকদের। (The Business Standard)
- The Business Standard (বাংলা) — রাকসু ভিপির সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের নিয়ে বক্তব্য। (The Business Standard)
- কালবেলা — রাকসু ভিপির বক্তব্য ও সংবাদ সম্মেলনের বিবরণ। (কালবেলা)





