নয়ন সাধু/নয়ন দাশ হত্যাকাণ্ড নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী সংবাদ ও ফলোআপ প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিক অন্তর দে বিশালকে প্রশাসনের পরিচয়ে মামলা ও হামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
হিন্দুস নিউজের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কক্সবাজার জাগো নিউজ (CJN)-এর সাংবাদিক অন্তর দে বিশাল নয়ন সাধু হত্যাকাণ্ডের পরদিন থেকেই সম্পাদক এম. আর. মাহবুবের নির্দেশনায় ঘটনাটি নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও ফলোআপ সংবাদ প্রকাশ করে আসছিলেন।
সাংবাদিকের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন মাস পর সম্প্রতি একজন আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ অব্যাহত রাখার জেরে তাকে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে হুমকির জন্য ব্যবহৃত দুটি নম্বর হিসেবে 01347148708 এবং +9607388408 উল্লেখ করা হয়েছে। সাংবাদিকের দাবি, ফোনকারীরা নিজেদের প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেন এবং তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান।
অন্তর দে বিশালের অভিযোগ, প্রকাশিত সংবাদ ও প্রতিবেদন মুছে ফেলা এবং ভবিষ্যতে নয়ন সাধু হত্যাকাণ্ড নিয়ে আর কোনো সংবাদ বা বক্তব্য প্রকাশ না করার জন্যও তাকে চাপ দেওয়া হয়।
ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিক তার কাছে থাকা হুমকির ফোন নম্বর, কলের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট প্রমাণ সংরক্ষণ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অন্তর দে বিশাল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে চাইলেও তা গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন।
এদিকে সাংবাদিককে হুমকির ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষ ও নেটিজেনরা উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, হুমকিদাতাদের পরিচয় শনাক্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে হুমকিদাতারা সত্যিই প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী কি না, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
পর্যবেক্ষণ
সংবাদ প্রকাশের কারণে একজন সাংবাদিককে মামলা, হামলা বা অন্যান্য ক্ষতির ভয় দেখানোর অভিযোগ সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের জন্য উদ্বেগজনক। বিশেষ করে হুমকিদাতা যদি সরকারি বা প্রশাসনিক পরিচয় ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে বিষয়টি স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র
- Hindus News-এর প্রকাশিত প্রতিবেদন
- সাংবাদিক অন্তর দে বিশালের বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট
- প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখিত হুমকির ফোন নম্বর ও অন্যান্য তথ্য





