রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও ডিবিসি নিউজের জেলা প্রতিনিধি সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল গ্রেপ্তার করে ঢাকায় নিয়ে গেছে। একই ঘটনায় রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর সুমনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে থেকে সাদা পোশাকে থাকা ডিবি সদস্যরা সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে নিয়ে যান। জেলা পরিষদের সামনের সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজন ব্যক্তিকে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এবং পরে একটি মাইক্রোবাসে তাঁকে উঠতে দেখা যায়।
রাঙামাটি জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে আটক করেছে।
শাহবাগ থানায় মামলা
সৈকত রঞ্জন চৌধুরী ও আলী আকবর সুমনের বিরুদ্ধে ঢাকার শাহবাগ থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিডিনিউজ২৪, সমকাল, বাংলা ট্রিবিউনসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে মামলাটিকে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলাটি করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সায়রা চন্দ্রা চাকমা বলে এসব প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, সায়রা চন্দ্রা চাকমার ছবি বিকৃত করে আপত্তিকরভাবে উপস্থাপন এবং তা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ছবি সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে ছড়ানো হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত নয়।
সাদাপোশাকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে সাদাপোশাকে কয়েকজন ব্যক্তি নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাঁর সহকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে কথা বলছেন। পরে তিনি একটি সাদা মাইক্রোবাসে ওঠেন।
প্রথম আলো–কে রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্যরা জানান, সৈকতকে খুঁজতে গিয়ে তাঁরা জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে তাঁর মোটরসাইকেল পড়ে থাকতে দেখেন। পরে জানতে পারেন, সাদাপোশাকের কয়েকজন তাঁকে মাইক্রোবাসে করে নিয়ে গেছেন।
রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে আটক করেছে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগের বিস্তারিত তাঁর জানা ছিল না।
অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী প্রথম আলো–কে বলেন, এমন কাউকে আটকের তথ্য তাঁদের কাছে নেই।
তথ্যসূত্র
১. প্রথম আলো, বিডিনিউজ২৪, দৈনিকসমকাল, বাংলা ট্রিবিউন, দৈনিক আমার দেশ, আজকের পত্রিকা, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা, রাঙামাটি জেলা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত।





