হবিগঞ্জের বাহুবলে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলা তুলে নিতে সাংবাদিক ও মামলার বাদী গোলাম মোস্তফা শৈবালকে চাপ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে তিনি হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
শৈবালের দাবি, মামলা দায়েরের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। মামলা প্রত্যাহার না করলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাকে অনেকটা আত্মগোপনে থাকতে হচ্ছে এবং তার পরিবারের সদস্যরাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দুই স্কুলপড়ুয়া সন্তানও ভয়ের কারণে নিয়মিত স্কুলে যেতে পারছে না বলে জানান তিনি।
১৬ জুলাই হামলার অভিযোগ
একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৬ জুলাই ২০২৬ বাহুবল উপজেলা পরিষদ চত্বরে সাংবাদিক হাবিবুর রহমান নোমানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। শৈবালের অভিযোগ, খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য সেখানে গেলে তাঁর ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল এবং সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।
শৈবালের আবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে সাংবাদিক হাবিবুর রহমান নোমান বাহুবলে অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলন নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন। ওই সংবাদকে কেন্দ্র করে নোমানের ওপর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
২১ জুলাই আদালতে মামলা
শৈবালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার ঘটনায় তিনি প্রথমে বাহুবল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণে বিলম্ব হওয়ায় পরে আদালতের শরণাপন্ন হন তিনি।
২১ জুলাই ২০২৬ হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাহুবল উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুর রকিবসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন শৈবাল। আদালতের নির্দেশের পর থানায় দেওয়া অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গণ্য করে মামলা রুজু করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাল্টা মামলার অভিযোগ
এদিকে, হামলার ঘটনার ১৮ দিন পর শৈবালের বিরুদ্ধে বাহুবল থানায় একটি পাল্টা অভিযোগ করা হয় বলে দৈনিক দেশবার্তা জানিয়েছে। শৈবাল ওই অভিযোগকে মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, যথাযথ সত্যতা যাচাই ছাড়াই অভিযোগটি মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
বাহুবল থানার ওসি রুহুল আমীন তালুকদার জানিয়েছেন, সাংবাদিক শৈবালের করা মামলার তদন্ত চলছে। কয়েকজন আসামি জামিনে থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।
পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তাঁর দপ্তরে দেওয়া শৈবালের আবেদনটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তথ্যসূত্র





