বরিশালের গৌরনদীতে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় সাংবাদিক মো. মাসুদ সরদারের ওপর হামলা এবং তাকে নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি গৌরনদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মাসুদ সরদার গৌরনদী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সুন্দরদী এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয়ভাবে সাংবাদিকতা করেন এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এস ও দৈনিক আগামীর সময়ের উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর হামলার অভিযোগ
থানায় দেওয়া অভিযোগের বরাত দিয়ে জানা যায়, ১৩ আগস্ট সৈকত নাসিম পরিচয়ে একজন ব্যক্তি মুঠোফোনে যোগাযোগ করে মাসুদ সরদারকে টরকী বন্দর এলাকার একটি বেসরকারি এনজিও কার্যালয়ে যেতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পর কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত হন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
মাসুদের দাবি, ওই কার্যালয়ে তাকে মারধর করা হয় এবং পরে সেখান থেকে বের করে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। এরপর মোটরসাইকেলে তুলে তাকে নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি।
স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় পরে তিনি ওই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসেন এবং গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে বিরোধের অভিযোগ
মাসুদ সরদারের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি রিয়াদ সরদারকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর সেটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য তার ওপর চাপ দেওয়া হয়। তিনি সংবাদ প্রত্যাহারে সম্মত না হওয়ায় হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন।
তবে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু এবং সেটিকে কেন্দ্র করেই হামলা হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
সরঞ্জাম ও টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
হামলার সময় তার আইফোন, ডিএসএলআর ক্যামেরা এবং নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন মাসুদ সরদার। অভিযোগে একটি আইফোন ১৩ প্রো, ডিএসএলআর ক্যামেরা ও ৫ হাজার টাকা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার কোনো ভিডিও বা সিসিটিভি ফুটেজ যাতে পরে সংগ্রহ করা না যায়, সে উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট ক্যামেরার মেমোরি খুলে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।
হত্যার হুমকির অভিযোগ
মাসুদ সরদারের আরও দাবি, তাকে প্রাণনাশ এবং লাশ গুমের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ বা আইনগত পদক্ষেপ নিলে ভবিষ্যতে তাকে হত্যা করা হতে পারে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে রিয়াদ সরদার, শিহাব সরদার ও সৈকত নাসিমসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা গৌরনদী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক পারভেজের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
পর্যবেক্ষণ
এটি বর্তমানে সাংবাদিক মো. মাসুদ সরদারের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নথিভুক্ত একটি ঘটনা। হামলা, হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, মালামাল নিয়ে যাওয়া, হুমকি এবং সিসিটিভির মেমোরি সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
বিশেষভাবে, সাংবাদিকের প্রকাশিত সংবাদ প্রত্যাহারের চাপ এবং পরবর্তী হামলার মধ্যে কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, সেটিও তদন্তে পরিষ্কার হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশি তদন্ত, মামলা এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনাটির পরবর্তী অবস্থা আপডেট করা প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র: বরিশাল ক্রাইম নিউজ, সত্যের উন্মোচন ২৪, ভুক্তভোগী সাংবাদিকের গৌরনদী মডেল থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ।





