রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর একই দিন ওই কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ১৭ আগস্ট ২০২৬, সোমবার দুপুরে।
অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা হলেন কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নিহার রঞ্জন। আর অভিযোগকারী সাংবাদিক হলেন দৈনিক কালবেলার রংপুর ব্যুরো প্রধান রেজওয়ান রনি।
থানায় কী ঘটেছিল
সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চুরির অভিযোগের বিষয়ে কটকিপাড়া এলাকার সাব্বির হাসানকে ওই দিন থানায় ডেকে নেন এসআই নিহার রঞ্জন। সাব্বিরের অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁকে গালিগালাজ করা হয়। তাঁর কাছ থেকে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
বিষয়টি জানতে দুপুরে থানায় যান রেজওয়ান রনি। রেজওয়ান জানান, তিনি প্রথমে নিজের পরিচয় দেন। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে এসআইকে প্রশ্ন করেন। এ সময় এসআই তাঁর পরিচয়পত্র দেখতে চান। রেজওয়ান রনি ভিজিটিং কার্ড দিলেও তা গ্রহণ করা হয়নি বলে তিনি জানান। রেজওয়ানের অভিযোগ, একপর্যায়ে তাঁকে বলা হয় থানায় সাংবাদিকদের গলায় পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে প্রবেশ করতে হবে। এরপর উচ্চস্বরে কথা বলে তাঁকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে রেজওয়ান তাঁর সহকর্মীদের বিষয়টি জানান। পরে কয়েকজন সাংবাদিক থানায় গেলে তাঁদের সঙ্গেও উচ্চস্বরে কথা বলা এবং কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
ঘটনাস্থলে থাকা খবরের কাগজের রংপুর প্রতিনিধি সেলিম সরকারও পুলিশের আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষ্য, থানায় আনা এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় এসআই নিহার রঞ্জন গালিগালাজ করছিলেন। এ বিষয়ে জানতে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়।
আরএনবি নিউজের হেড অব ডিজিটাল এ কে এম সুমন মিয়াও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, পরিচয়পত্র ছাড়া সাংবাদিকদের থানার ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে এসআই জানান। একপর্যায়ে তাঁর সঙ্গেও খারাপ আচরণ করা হয়।
একই দিন এসআইকে ক্লোজড
ঘটনার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের জানানো হয়। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের জানান, সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগের পর ওই দিন বিকেলে এসআই নিহার রঞ্জনকে সিসি দিয়ে পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। ওসি আরও বলেন, থানা সবার জন্য উন্মুক্ত। সাংবাদিকদের সেখানে প্রবেশের সময় গলায় পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে আসার বাধ্যবাধকতা নেই।
ইউএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দিন রাতে তাঁকে কমিশনার কার্যালয়ে পাঠানোর পর সেখান থেকেই ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
তথ্যসূত্র: জাগো নিউজ২৪, কালবেলা, ইউএনবি, আমার দেশ, বাংলা ট্রিবিউন।
ট্যাগ: রংপুর, সাংবাদিক হেনস্তা, পুলিশ





