ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের এক শিক্ষার্থীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভোস্টের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ার পর হল কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে হেনস্তা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোর করে লিখিত বক্তব্য নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস আল-মামুনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং পরে সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজও পর্যালোচনা করা হয়েছে।
ঘটনাটি ১৬ আগস্ট ২০২৬ ঘটেছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই দিন রাতে শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগে ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা তাঁর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন এবং তাঁকে অবরুদ্ধ করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে যায়।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ইব্রাহিমকে প্রভোস্টের কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। তাঁর বন্ধু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আবির হাসানের বর্ণনা অনুযায়ী, ইব্রাহিমকে সেখানে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ ও ধমক দেওয়া হয়, তাঁর মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় এবং একটি লিখিত বক্তব্য দিতে বলা হয়। পরে সেই বক্তব্য পুনরায় লিখতে বলা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
আবির হাসানের দাবি, ইব্রাহিমকে প্রভোস্টের প্রশংসা করে ফেসবুকে পোস্ট দিতে এবং হল কার্যালয়ে ঘটে যাওয়া বিষয়টি অন্যদের সঙ্গে শেয়ার না করতে বলা হয়। বিষয়টি প্রকাশ করলে হলের সিট ও ছাত্রত্ব বাতিল এবং সাইবার আইনে মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, ইব্রাহিমকে প্রায় এক ঘণ্টা ১৭ মিনিট হল কার্যালয়ে রাখা হয়।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রভোস্ট ইলিয়াস আল-মামুন তা অস্বীকার করেছেন। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য হিসেবে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীকে হলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখির বিষয়ে জানতে ডাকা হয়েছিল এবং তাঁকে কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করা হয়নি।
ঘটনার তদন্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ১৮ আগস্ট তদন্ত কমিটি হলের প্রভোস্ট কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কয়েকজন প্রতিনিধিকে ফুটেজ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।
১৯ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে The Daily Campus ও জাগো নিউজ জানায়, সংশ্লিষ্টদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখানো হয়েছে। ফুটেজ দেখার পর শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তদন্ত চলাকালে প্রভোস্টকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
ঘটনাটি ঘিরে পরে হল সংসদের নেতাদের সঙ্গে তদন্ত কমিটির সদস্যদের বাগ্বিতণ্ডা এবং ছাত্রদল-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এসব পৃথক ঘটনার ভূমিকা ও অভিযোগগুলো নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে।
ঘটনাটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীকে হলের বিষয় ও প্রভোস্টকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনামূলক লেখালেখির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তাঁকে প্রভোস্টের প্রশংসা করে পোস্ট দিতে এবং ভবিষ্যতে বিষয়টি প্রকাশ না করতে চাপ দেওয়া হয়েছিল।
তথ্যসূত্র: The Daily Campus, প্রথম আলো, ঢাকা পোস্ট, দৈনিক আমার দেশ, ইত্তেফাক, দেশ রূপান্তর,





