কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় সাংবাদিক ও সাবেক গণমাধ্যমকর্মী হাসান ইমাম ইবনে হাবীব ওরফে হাসান ইমাম রুবেলকে লেখালেখি বন্ধ করার জন্য সতর্ক করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ‘তৌহিদী জনতা’র নামে পাঠানো একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে তিনি ২৬ আগস্ট ভেড়ামারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং চিঠির উৎস ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
জিডির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ২৬ আগস্ট ভোরে ভেড়ামারা উপজেলার হিড়িমদিয়া গ্রামে হাসান ইমামের বাড়ির প্রধান ফটকের নিচ দিয়ে একটি সাধারণ খামে চিঠিটি রেখে যাওয়া হয়। চিঠিতে তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন স্ট্যাটাস, মন্তব্য ও লেখালেখি নিয়ে আপত্তি জানানো হয় এবং এসব লেখা বন্ধ করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে চিঠিতে তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয় ও চলাফেরা সম্পর্কে তথ্য থাকার এবং তাঁর গতিবিধির ওপর নজর রাখার দাবি করা হয়েছে।
হাসান ইমামের ভাষ্য অনুযায়ী, লেখালেখি বন্ধ না করলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। চিঠির শেষে ‘তৌহিদী জনতা’ নাম ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে চিঠিটি কারা দিয়েছে, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। হাসান ইমামও জিডিতে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে সরাসরি দায়ী করেননি। বরং চিঠির প্রকৃত উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন।
এ বিষয়ে ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান কথা বলেছেন প্রথম আলোর সাথে। তিনি জানিয়েছেন, সাংবাদিক হাসান ইমাম জিডি করেছেন এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ তাঁর সঙ্গে কথা বলেছে এবং তাঁকে সতর্কভাবে চলাফেরা ও স্থানীয় পুলিশকে অবহিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে ওসি বলেছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে এবং চিঠিটি কে বা কারা রেখে গেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর পুলিশ হাসান ইমামের হিড়িমদিয়ার বাড়ি পরিদর্শন করেছে বলেও একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাসান ইমাম রুবেল বিভিন্ন সময়ে দেশের গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। জাগো নিউজ ও রাইজিংবিডির প্রতিবেদনে তাঁকে দৈনিক প্রথম আলোর সাবেক সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চ্যানেল২৪-এর আউটপুট এডিটর এবং নিউজবাংলার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালনের তথ্য এসেছে।
ঘটনার বিষয়ে হাসান ইমাম রুবেল বলেন, পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন পর গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পর ভোরে বাড়ির ফটকের নিচে ‘তৌহিদী জনতা’র নামে চিঠিটি পাওয়া যায়। তিনি প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং চিঠির প্রকৃত উৎস ও এর সঙ্গে জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, বিডিনিউজ২৪ ডটকম, কালের কণ্ঠ, জাগো নিউজ২৪ ও রাইজিংবিডি।





