অনলাইন সংবাদমাধ্যম নাগরিক প্রতিদিন-এর কার্যক্রম ৩১ আগস্ট ২০২৬ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে ৩০ আগস্ট নাগরিক মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের পক্ষ থেকে কর্মীদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়, সোমবার ৩১ আগস্ট থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আর পরিচালিত হবে না।
কর্মীদের কাছে পাঠানো চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক আর্থিক, প্রশাসনিক ও কার্যক্রমগত পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মীদের দেওয়া চিঠিতে কার্যক্রম বন্ধের নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। মালিকপক্ষের পক্ষ থেকেও বন্ধের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চিঠিতে কার্যক্রম বন্ধের পর কর্মীদের দায়িত্বে থাকা নথি, ফাইল, অফিসিয়াল সম্পদ, পরিচয়পত্র, ছবি, ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ অন্যান্য দায়িত্ব ও সম্পদ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বেতন ও পাওনা নিয়ে অনিশ্চয়তা
প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের একটি অংশের দাবি, কার্যক্রম বন্ধের সময় তাদের বেতন ও অন্যান্য পাওনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্ধশতাধিক সংবাদকর্মীর অন্তত দুই মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। তবে এই তথ্য কর্মীদের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে; এ বিষয়ে মালিকপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন নাগরিক প্রতিদিন নিয়মিতভাবে অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ করছিল। ওয়েবসাইটের আর্কাইভ অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট সন্ধ্যা পর্যন্তও সেখানে নতুন কনটেন্ট প্রকাশিত হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে—এটি নিশ্চিত হলেও ওয়েবসাইটটি একই মুহূর্তে সম্পূর্ণভাবে অফলাইনে চলে গেছে—এমন দাবি করার ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
নাগরিক প্রতিদিন মেঘনা গ্রুপের মালিকানাধীন/বিনিয়োগকৃত একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর মেঘনা গ্রুপ দেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে বিনিয়োগ করে; নাগরিক প্রতিদিন ছিল এর মধ্যে একটি।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর প্রভাব
একটি সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে তার সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের কর্মসংস্থান ও পেশাগত নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সংবাদ প্রকাশের একটি প্ল্যাটফর্মও হারিয়ে যায়। এর ফলে তথ্যপ্রবাহ ও মতপ্রকাশের পরিসর সংকুচিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
এই প্রেক্ষাপটে নাগরিক প্রতিদিন-এর কার্যক্রম বন্ধের ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সেন্সরশিপের বিস্তৃত কাঠামোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে একটি সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রম বন্ধের ফলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের পেশাগত মতপ্রকাশের ক্ষেত্র এবং জনগণের তথ্য পাওয়ার একটি মাধ্যম সীমিত হয়েছে।
তথ্যসূত্র





