October 29, 2026 3:20 pm
October 29, 2026 3:20 pm

১১ বছর পর সাংবাদিক উৎস হত্যা মামলার রায়: একজনের মৃত্যুদণ্ড, দুজনের যাবজ্জীবন

১১ বছর পর সাংবাদিক উৎস হত্যা মামলার রায়: একজনের মৃত্যুদণ্ড, দুজনের যাবজ্জীবন

রংপুরে সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস রহমান হত্যা মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। প্রায় ১১ বছর পর মামলাটির রায় হলো। বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুরে রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান খান এ রায় দেন। আসামিদের অনুপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয় বলে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন রুবেল ইসলাম ওরফে হেকরম। লেলিন ইসলাম ওরফে এলিন এবং শুভ কুমারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিই পলাতক।

মামলার প্রধান আসামি জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদীকে আদালত খালাস দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল হাদী বেলাল বলেন, সাক্ষ্য ও প্রমাণের ঘাটতির কারণে আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদী হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, উৎস রহমানকে হত্যার জন্য ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। তবে আদালত অভিযোগটি প্রমাণিত মনে করেননি।

রায়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন নিহত সাংবাদিকের মা ও মামলার বাদী নুরজাহান বেগম নুরী। তিনি উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগও রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের কথা বলেছেন।

রংপুরের সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতারাও রায়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, দণ্ডপ্রাপ্তরা পলাতক এবং মামলার প্রধান অভিযুক্ত খালাস পাওয়ায় তারা সন্তুষ্ট নন।

হত্যাকাণ্ড

২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর রাতে উৎস রহমান রংপুরের স্থানীয় দৈনিক যুগের আলো কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি কার্যালয় থেকে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে নগরীর ধর্মদাস এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় উৎস রহমানের মা নুরজাহান বেগম নুরী রংপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া

মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল বলে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (BSS) জানিয়েছে। পরে আদালত ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। প্রায় ১১ বছর ধরে মামলাটির বিচার চলে। সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় দেন। তবে সাক্ষীর সংখ্যা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। BSS ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের কথা জানিয়েছে। অন্য কয়েকটি প্রতিবেদনে ১২ জন সাক্ষীর কথা বলা হয়েছে।

খালাস পাওয়া আসামির সংখ্যাতেও সংবাদমাধ্যমে অসঙ্গতি রয়েছে। আজকের পত্রিকা ও Dhaka Stream পাঁচজন খালাসের কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে বিডিনিউজ২৪ ও ITV তিনজন খালাসের কথা জানিয়েছে।

আদালতের রায়

রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালত রুবেল ইসলাম ওরফে হেকরমকে মৃত্যুদণ্ড দেন। লেলিন ইসলাম ওরফে এলিন এবং শুভ কুমারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের সময় দণ্ডপ্রাপ্তরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না বলে সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার বা সাজা কার্যকরের বিষয়টি এখন পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

প্রধান আসামির খালাস

মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসামি ছিলেন জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদী। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে তিনি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের জন্য অর্থ দেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে ছিল বলে আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে। তবে আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন। অর্থাৎ অভিযোগটি আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

পরিবারের প্রত্যাশা

রায়ের পর নিহত সাংবাদিকের পরিবার পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেনি। মা নুরজাহান বেগম নুরী উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবীরাও রায়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের কথা বলেছেন। তাদের মূল প্রশ্ন হলো, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাই কেন দণ্ডিত হলেন না। রাষ্ট্রপক্ষও রায়ের কিছু অংশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ফলে মামলাটির আইনি প্রক্রিয়া এখানেই শেষ হচ্ছে না।

১১ বছর পরও প্রশ্ন

উৎস রহমান হত্যার পর প্রায় ১১ বছর কেটে গেছে। এই সময়ে তদন্ত হয়েছে। চার্জশিট হয়েছে। অভিযোগ গঠন হয়েছে। সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত একজনের মৃত্যুদণ্ড এবং দুজনের যাবজ্জীবন হয়েছে।

তবে দণ্ডপ্রাপ্তদের পলাতক থাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের খালাস পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিহত সাংবাদিকের পরিবার উচ্চ আদালতে যেতে চায়। তাই মামলাটির পরবর্তী অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিক হত্যার মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং রায় বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করাও জরুরি।

তথ্যসূত্র


ওসমানী হাসপাতালে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা
সাংবাদিক

ওসমানী হাসপাতালে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক। তাঁরা হলেন দৈনিক শ্যামল সিলেট-এর ফটোসাংবাদিক রেজা রুবেল এবং সিলেটভিউ২৪ ডটকমের

বিস্তারিত »
মর্গ নিয়ে প্রতিবেদন, সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি
সাংবাদিক

মর্গ নিয়ে প্রতিবেদন, সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মৃত নারীদের মরদেহের সঙ্গে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর জীবননাশের হুমকি পেয়েছেন সাংবাদিক দিপু সিকদার।

বিস্তারিত »
ঝিনাইদহে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা, চাঁদাবাজির মামলা
সাংবাদিক

ঝিনাইদহে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা, চাঁদাবাজির মামলা

ঝিনাইদহে সরকারি কলেজের অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক। তাঁরা হলেন দৈনিক ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’-এর জেলা প্রতিনিধি অরিত্র কুমার কুণ্ডু এবং হাবিবুর

বিস্তারিত »
সাগর–রুনি হত্যা: তদন্তে আরও ছয় মাস
বিচারহীনতা ও জবাবদিহি

সাগর–রুনি হত্যা: তদন্তে আরও ছয় মাস

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার

বিস্তারিত »
আমার দেশ প্রেসে বোমা নিক্ষেপের নিন্দা বিএফইউজে-ডিইউজের, জড়িতদের শাস্তি দাবি
বিচারহীনতা ও জবাবদিহি

আমার দেশ প্রেসে বোমা নিক্ষেপের নিন্দা বিএফইউজে-ডিইউজের, জড়িতদের শাস্তি দাবি

দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ছাপাখানার সামনে ককটেল নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন

বিস্তারিত »
কালবেলার সাংবাদিককে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ
সাংবাদিক

কালবেলার সাংবাদিককে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ

দৈনিক কালবেলার গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি মহিন উদ্দিন রিপনকে অপহরণ করে নির্যাতন এবং এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। তাঁর অভিযোগ, মাদক ও সন্ত্রাস নিয়ে

বিস্তারিত »