ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) সাংবাদিক কালাম মুহাম্মাদের ওপর হামলার অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে। মামলার আবেদনে ডিআইইউর এমবিএ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী মো. মাহিন অর রশিদ প্লাবনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অন্য পাঁচজন হলেন বাধন, মুরাদ পাটোয়ারী, জোবায়ের পাটোয়ারী, প্রত্যয় ও মিনহাজ। আবেদনে আরও ৭–৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কালাম মুহাম্মাদের ওপর হামলার ঘটনায় এর আগে বাড্ডা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। হামলার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ থানায় জমা দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী লিখিত ও ভিডিও জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর মামলার বাদী সাংবাদিক কালাম মুহাম্মাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকির অভিযোগ
কালাম মুহাম্মাদের ওপর হামলার অভিযোগের আগে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মাদক নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকেরা। ১০ সেপ্টেম্বর তাঁরা বাড্ডা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডি নম্বর ৬৮৯।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন সাংবাদিকই ডিআইইউর শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। তাঁদের মধ্যে ডিআইইউ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল খায়ের নিজেকে একজন ভুক্তভোগী সাংবাদিক হিসেবে নিশ্চিত করেছেন। তবে এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত পাওয়া নির্ভরযোগ্য প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে অন্য দুই ভুক্তভোগী সাংবাদিকের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
হুমকির ঘটনায় কারা অভিযুক্ত?
১০ সেপ্টেম্বরের জিডিতে মো. মাহিন অর রশিদ প্লাবনসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির কথাও বলা হয়েছে। জিডিতে ঘটনার তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ পুলিশকে দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর আগে প্লাবনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয়। তাঁকে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করে। কমিটির সদস্যসচিব করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদকে।
১২ সেপ্টেম্বরের হামলার অভিযোগ
হত্যার হুমকির অভিযোগের পর সাংবাদিক কালাম মুহাম্মাদের ওপর হামলার অভিযোগ সামনে আসে। কালাম মুহাম্মাদের করা মামলার আবেদনে ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে মাহিন অর রশিদ প্লাবন ছাড়াও বাধন, মুরাদ পাটোয়ারী, জোবায়ের পাটোয়ারী, প্রত্যয় ও মিনহাজের নাম রয়েছে। আরও ৭–৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কালাম মুহাম্মাদ অভিযোগ করেছেন, লিখিত অভিযোগ ও নিরাপত্তার আবেদন করার পরও তিনি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পাননি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন এবং বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলার কথা জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদক্ষেপ
তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকির অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাহিন অর রশিদ প্লাবনকে শোকজ করে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করে। জিডির বিষয়ে বাড্ডা থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা
১০ সেপ্টেম্বর: মাদকসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকির অভিযোগে বাড্ডা থানায় জিডি করা হয়। জিডি নম্বর ৬৮৯।
১০ সেপ্টেম্বরের পর: বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাহিন অর রশিদ প্লাবনকে শোকজ করে এবং তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।
১২ সেপ্টেম্বর: সাংবাদিক কালাম মুহাম্মাদের ওপর হামলার অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়। আবেদনে আরও ৭–৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির কথা বলা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও শিক্ষার্থীদের জবানবন্দির কথাও প্রকাশিত প্রতিবেদনে রয়েছে।
১৪ সেপ্টেম্বর: প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামলার মামলার আবেদন ও তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকির অভিযোগের তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।
নোট-
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি সাংবাদিকের পেশাগত নিরাপত্তা এবং সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। মাদকসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকির অভিযোগ, থানায় জিডি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শোকজ ও তদন্ত কমিটি এবং পরবর্তী সময়ে সাংবাদিক কালাম মুহাম্মাদের ওপর হামলার অভিযোগ—ঘটনাগুলো সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে।
তথ্যসূত্র





