কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও তার পরিবার।
গ্রেপ্তার সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকির (৪০) স্থানীয় একটি দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। তিনি Kishoreganj Central Press Club-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগ অনুযায়ী বর্তমানে “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার” শিকার।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামে জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। পরদিন খায়রুল ইসলাম ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন। পরে আরও কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে একই বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পর একটি প্রভাবশালী পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। প্রথমে ২ মার্চ একটি মামলা দায়ের করা হয় এবং পরে ৫ মার্চ পাল্টা মামলায় ভাঙচুর, মারামারি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে খায়রুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়।
পরিবার দাবি করেছে, খায়রুল ইসলাম সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন না এবং শুধুমাত্র পেশাগত দায়িত্ব পালন করায় তাকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, ৯ মার্চ খায়রুল ইসলাম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান। বর্তমানে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কারাগারে থাকায় তারা মানবিক ও আর্থিক সংকটে রয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
পরিবার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযোগ প্রত্যাহার এবং সাংবাদিক খায়রুল ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকরাও ঘটনাটিকে গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানির উদ্বেগজনক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।





