যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)-এ বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা কভার করতে গিয়ে অন্তত তিনজন সাংবাদিক হামলা ও হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, সংঘর্ষের ভিডিও ধারণের সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের ওপর চড়াও হন, মারধর করেন এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
ঘটনাটি মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান জিমনেসিয়ামে ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শনের সময় পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (PME) এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (AIS) বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি শান্ত হলেও পরে জিমনেসিয়ামের বাইরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এআইএস বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল্লাহ জিমনেসিয়াম থেকে বের হয়ে শহীদ মিনারের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আগে থেকে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী তার ওপর হামলা চালান। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা হামলার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তারাও হামলার মুখে পড়েন। উত্তেজিত কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের ভিডিও ধারণে বাধা দেন, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন দৈনিক জনকণ্ঠের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মো. ইমরান হোসেন, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি মো. সাব্বির আহম্মেদ এবং সংবাদ পরিক্রমার প্রতিনিধি মাহফুজুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক ইমরান হোসেন জানান, তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে ঘটনাস্থলে ভিডিও ধারণ করছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাইফুল্লাহকে মারধরের দৃশ্য ধারণ করার সময় পিএমই বিভাগের এক শিক্ষার্থী তার ওপর হামলা চালিয়ে পেটে লাথি ও কিল-ঘুষি মারেন এবং ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে বলেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি সাব্বির আহম্মেদও অভিযোগ করেন, ক্যামেরা দেখে কয়েকজন শিক্ষার্থী তার ওপর চড়াও হন। তিনি জানান, তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং একাধিকবার তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
অন্যদিকে সংবাদ পরিক্রমার প্রতিনিধি মাহফুজুল ইসলামও নিজেকে হামলা ও হয়রানির শিকার বলে দাবি করেছেন।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযুক্তদের একজন আহাদ হোসেন সৈকত সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অপর দুই অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করেননি।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় কোনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে, ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে থানায় মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, সে বিষয়েও নির্ভরযোগ্য কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক। জনস্বার্থে সংঘটিত ঘটনা ধারণ ও প্রচার করা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব। এমন পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের নিরাপদে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং হামলার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।
তথ্যসূত্র: DBC News, গ্রামের কাগজ





