তথ্য চাওয়ায় যমুনা টিভির সাংবাদিককে মামলার হুমকি
নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণ জানতে গিয়ে যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার শফিক ছোটন জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক গোলাম মো. আজমের কাছ থেকে প্রকাশ্যে মামলার হুমকির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের কার্যক্রম, এর কারণ এবং পুনরায় চালুর সম্ভাবনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে যান যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার শফিক ছোটন। ওই সময় উপপরিচালক গোলাম মো. আজম সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং পরে তার বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়। (
শফিক ছোটনের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় স্থানীয় হাজারো মানুষ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছে তথ্য জানতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন, ভিডিও সাংবাদিককে গালিগালাজ করেন এবং পরে অন্যান্য সাংবাদিক উপস্থিত থাকাকালেও মামলা করার হুমকি দেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বৈশাখী টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আরমান হোসেন রুমন জানান, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে গোলাম মো. আজমের আচরণ অগ্রহণযোগ্য ছিল। তার দাবি, জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকের সঙ্গে এমন আচরণ এবং মামলা করার হুমকি স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলার বিভিন্ন টেলিভিশনের সাংবাদিকরা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে উপস্থিত হন। উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনেও উপপরিচালক যমুনা টিভির সাংবাদিক ও ভিডিও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় নওগাঁ জেলা টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার তদন্ত, দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানায়। সংগঠনটি সতর্ক করে যে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে তারা কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার না করলেও উপপরিচালক গোলাম মো. আজম দাবি করেন, সাংবাদিকরা অনুমতি ছাড়া ক্যামেরা ব্যবহার করেছিলেন। তিনি বলেন, তিনি শুধু উচ্চস্বরে কথা বলেছেন, মারমুখী আচরণ করেননি। তবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত নওগাঁ সদর থানায় এ বিষয়ে কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট
জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব। কোনো সরকারি কর্মকর্তা তথ্য চাওয়ার কারণে সাংবাদিককে মামলা করার হুমকি দিলে তা স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। যদিও ঘটনাটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যও প্রকাশিত হয়েছে, তবুও অভিযোগের প্রকৃতি সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে ভয়ভীতি প্রদর্শনের প্রশ্ন উত্থাপন করে।
FoEBD-এর মূল্যায়ন
FoEBD-এর প্রাথমিক মূল্যায়নে, ঘটনাটি সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একজন সরকারি কর্মকর্তার পক্ষ থেকে মামলা করার হুমকির অভিযোগ হিসেবে প্রতীয়মান হয়। এ ধরনের অভিযোগ স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ প্রকাশের পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগের বিষয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যও প্রকাশিত হয়েছে এবং এ বিষয়ে এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক তদন্ত বা আইনি নিষ্পত্তি হয়নি। তাই FoEBD ঘটনাটিকে মনিটরিং কেস হিসেবে পর্যবেক্ষণে রাখছে। ভবিষ্যতে তদন্ত, প্রশাসনিক ব্যবস্থা, আদালতের কার্যক্রম বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নতুন বক্তব্য পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদন হালনাগাদ করা হবে।
তথ্যসূত্র
- জাগো নিউজ ২৪ — নওগাঁয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ নিয়ে প্রশ্ন করায় সাংবাদিককে মামলার হুমকি। (Jagonews24)
- এনটিভি অনলাইন — স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দুরাবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করায় নওগাঁয় সাংবাদিককে মামলার হুমকি। (NTV BD)
- যমুনা টেলিভিশনের প্রকাশিত ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট। (Facebook)





