ওসির উপস্থিতিতে কালীগঞ্জে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার সামনে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত প্রায় ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হামলার সময় কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আহত দুই সাংবাদিক হলেন—দৈনিক যুগান্তর-এর কালীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি শাহরিয়ার আলম সোহাগ এবং নাগরিক টিভির ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি মিশন আলী। আহত অবস্থায় তাদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার পটভূমি
সাংবাদিক মিশন আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, আড়পাড়া এলাকায় মাদক-সংশ্লিষ্ট একটি ঘটনার জেরে কয়েকজনকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। বিষয়টি জানতে ও প্রতিবাদ জানাতে স্থানীয় নারী-পুরুষ থানার সামনে জড়ো হন। এ সময় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সংবাদ সংগ্রহের জন্য তিনি ও শাহরিয়ার আলম সোহাগ ঘটনাস্থলে যান।
তার অভিযোগ, থানার সামনে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি নারীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও হামলা শুরু করলে তিনি ভিডিও ধারণ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন ভিডিও করতে বাধা দেন এবং পরে তার ওপর হামলা চালান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, জালালের সঙ্গে আরও কয়েকজন মিলে তাকে মারধর করেন।
সাংবাদিক শাহরিয়ার আলম সোহাগও একই ধরনের অভিযোগ করে বলেন, থানায় আসা নারীদের ওপর হামলার দৃশ্য ধারণ করায় হামলাকারীরা তাদের ওপর চড়াও হয়। তার দাবি, হামলার পরও অভিযুক্তদের তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়নি; বরং তারা ঘটনাস্থল ত্যাগের সুযোগ পান।
অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জালাল উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের বক্তব্য
কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আড়পাড়া এলাকা থেকে একটি মাদক মামলার আসামিকে থানায় আনার পর স্থানীয় লোকজন থানার সামনে জড়ো হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সহযোগিতা চান। তার ভাষ্য, সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণ করলে কয়েকজন আপত্তি জানায় এবং এ সময় ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
ওসি দাবি করেন, পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। সাংবাদিকদের সঙ্গে তার বা থানার কোনো বিরোধ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এখন পর্যন্ত অগ্রগতি
২১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কোনো গ্রেপ্তার, মামলা বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) বা অন্যান্য জাতীয় সাংবাদিক সংগঠনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও প্রকাশিত হয়নি।
FOEBD-এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঘটনাটি সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর সংঘটিত কথিত হামলার অভিযোগ হওয়ায় এটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ঘটনার তদন্ত, আইনগত অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র
- যুগান্তর
- জাগো নিউজ
- রাইজিংবিডি,
- আমাদের সময়,
সাংবাদিকের ওপর হামলা, কালীগঞ্জ থানা, ঝিনাইদহ, Press Freedom Bangladesh





