সাইবার মামলায় এইচ আর শফিক কারাগারে
সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমান (এইচ আর শফিক)-কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এদিকে, কয়েকজন সাংবাদিক দাবি করেছেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরসংক্রান্ত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে। তবে এই দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত আদালতের নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত হাফিজুর রহমান (এইচ আর শফিক)-এর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে শাহবাগ থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এক কর্মীর দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ দাবি, অর্থ না দিলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ভিডিও প্রকাশের হুমকি এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ভিডিও প্রচার করা হয়। মামলায় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
বাদী বিভিন্ন গণমাধ্যমকে দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে তাকে সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হচ্ছিল এবং AI-নির্ভর ভিডিও প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জানান, মামলাটি তদন্তাধীন এবং প্রয়োজন হলে রিমান্ড আবেদন করা হবে। এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
এদিকে, কয়েকজন সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে, হাফিজুর রহমান (এইচ আর শফিক) ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের নিয়োগ ও প্রশাসনিক অনিয়ম নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন। তাদের অভিযোগ, ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই তার বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়।
FoEBD পর্যবেক্ষণ
মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আইনগতভাবে প্রমাণিত বলে গণ্য করা যাবে না।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি বা সাইবার মামলার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত, ন্যায়বিচার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা—তিনটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। FoEBD মামলাটিকে Monitoring Case হিসেবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তদন্ত, আদালতের কার্যক্রম বা সরকারি নথিতে নতুন তথ্য প্রকাশিত হলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, জাগো নিউজ ২৪, এনটিভি, দৈনিক আমার দেশ, আদালত-সংশ্লিষ্ট তথ্য এবং প্রকাশ্য নথি।





