বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে তথ্য সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ
বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এটিএন নিউজের বরগুনা প্রতিনিধি মো. মাসুম বিল্লাহ হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরে উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমঝোতা হয়েছে বলে ভুক্তভোগী জানিয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের স্বাস্থ্য সহকারী এনামুল কবিরের বিরুদ্ধে থাকা একটি অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে তিনি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে তথ্য চাইলে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও এটিএন নিউজের বুম কেড়ে নেওয়া হয় এবং তার ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয়।
তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তার মোবাইল ফোন ও এটিএন নিউজের বুম উদ্ধার করে। পরে তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন এবং হাসপাতালে ভর্তি হন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও সাংবাদিককে মারধর, আটকে রাখা এবং তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি মীমাংসার পর্যায়ে রয়েছে।
চিকিৎসা-সংক্রান্ত অভিযোগ
চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, হাসপাতালে ভর্তি-সংক্রান্ত নথিতে প্রথমে “Police Case” এবং “Physical Assault” উল্লেখ থাকলেও পরে তা পরিবর্তন করে “Accidental Injury” লেখা হয়। বিষয়টি নজরে এলে পুনরায় সংশোধন করা হলেও সেই ছাড়পত্র তাকে দেওয়া হয়নি। পরিবর্তে “General Weakness” উল্লেখ করে অন্য একটি ছাড়পত্র দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের নজরে আনার পর তাকে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ও কাঙ্ক্ষিত ছাড়পত্র না পেয়েই তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
পরবর্তী অগ্রগতি
মাসুম বিল্লাহর প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, পরবর্তীতে হাসপাতালের প্রধান অফিস সহকারী শহিদুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরগুনা জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা মো. আব্দুস শাকুরকে সঙ্গে নিয়ে তার বাসায় যান। সেখানে শহিদুল ইসলাম ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ক্যামেরা সরঞ্জামের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে মাওলানা আব্দুস শাকুরের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমঝোতা হয়।
প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর বরগুনা জেলার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।
যাচাইয়ের অবস্থা
FOEBD-এর যাচাই অনুযায়ী, সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, চিকিৎসা গ্রহণ এবং ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
তবে চিকিৎসা নথি পরিবর্তনের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ক্ষমা প্রার্থনা, ক্ষতিপূরণের আশ্বাস এবং সমঝোতার বিষয়গুলো মূলত ভুক্তভোগী সাংবাদিকের প্রকাশিত বিবৃতির ভিত্তিতে জানা গেছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পৃথক লিখিত বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত তথ্য এই প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
তথ্যসূত্র
১. মাসুম বিল্লাহ (ভুক্তভোগী সাংবাদিক), ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্ট, প্রকাশের তারিখ: ২৩ জুলাই ২০২৬
২. ভিডিও সাক্ষ্য: “আমার দেশ”সহ একাধিক ফেসবুক পেজে প্রকাশিত মাসুম বিল্লাহর চিকিৎসাধীন অবস্থার ভিডিও
৩. Daily Sesh Katha, “বরগুনা সদর হাসপাতালে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ: পুরো জেলাজুড়ে ক্ষোভ”





