জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত সাংবাদিক মো. আলমগীর হোসাইন হৃদয় দাবি করেছেন, সংবাদ প্রকাশের কারণে তাকে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে “মিথ্যা মামলা” দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ এপ্রিল ২০২৬ মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের চর নলছিয়া এলাকার ঝারকাটা নদীর খাস জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের ঘটনা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে যান সাংবাদিক আলমগীর হোসাইন হৃদয়। তিনি মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব-এর প্রচার সম্পাদক এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে কাজ করছেন।
সাংবাদিকের অভিযোগ, অভিযুক্ত নুর নবী—যিনি নিজেকে আনসার কমান্ডার পরিচয় দিতেন—সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য তাকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয় এক ব্যক্তি মাধ্যমে অর্থ প্রস্তাব করা হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
পরে অবৈধ মাটি উত্তোলনের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে মাদারগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল দিও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান এবং প্রশাসন একটি খননযন্ত্র (ভেকু) অকেজো করে এর ব্যাটারি জব্দ করে।
এরপর নুর নবী সাংবাদিক আলমগীর হোসাইনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে জামালপুর আদালতে দুটি মামলা দায়ের করেন।
সাংবাদিক আলমগীর হোসাইন বলেন, “আমি শুধুমাত্র পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছি। অবৈধ কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের কারণেই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাটিকে গণমাধ্যমকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, অনুসন্ধানী বা সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রবণতা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক।





