বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই সাংবাদিকে আসামি করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা। তারা ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
পুলিশের দায়ের করা মামলায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও প্রায় ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার ২১ নম্বর আসামি করা হয়েছে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা টিভি’র প্রতিনিধি এফ. এম. নাজমুল রিপনকে এবং ২৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তর প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামকে। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে হামলাকারীদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
নাজমুল রিপনের দাবি, সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদকে কেন্দ্র করে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ খান তার বিরুদ্ধে একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই জিডি প্রত্যাহারের দাবিতে সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অন্যদিকে সাইফুল ইসলামের অভিযোগ, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাদের মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে ওসি মো. মাসুদ খান বলেন, ভিডিও ফুটেজ ও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে হামলাকারীদের পাশাপাশি গুজব ছড়িয়ে হামলায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পুলিশের একাধিক তদন্ত দল বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তদন্তে কেউ জড়িত না থাকলে তার বিরুদ্ধে কোনো হয়রানি হবে না এবং প্রয়োজন হলে মামলার এজাহার থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।
এদিকে বরিশাল টেলিভিশন ও মাল্টিমিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আক্তার ফারুক শাহিন দুই সাংবাদিক নেতাকে আসামি করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং শুধুমাত্র সংবাদ সংগ্রহের কারণে সাংবাদিকদের হয়রানি না করার আহ্বান জানান।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ৯ জুলাই। চুরি ও মাদক মামলার সন্দেহভাজন রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ হেফাজতে তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। পরে ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসীর একটি অংশ আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, ভাঙচুর এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। পুলিশের দাবি, রিয়াজ থানাহাজতে নিজেই মাথায় আঘাত করেছিলেন এবং পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে হামলায় একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে।
তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার বাংলা, দৈনিক যুগান্তর, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, জাগো নিউজ২৪, বাহান্ন নিউজ, আজকের কণ্ঠ।





