কুমিল্লায় মানহানি মামলায় সাংবাদিক মাহবুব আলম গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মুরাদনগরে বিএনপির এক নেতার দায়ের করা এক হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলায় স্থানীয় ওই সাংবাদিকে ১ জুলাই বিকেলে উপজেলার গাইঢুলি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রায় ২০ ঘণ্টা আটকে রাখার পর ২ জুলাই তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।
মাহবুব আলম মুরাদনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কাজ করেছেন। বর্তমানে একটি স্থানীয় পত্রিকার মুরাদনগর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত এবং একই সঙ্গে একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম পরিচালনা করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৭ জুলাই কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া মানহানির মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৭ জুন মুরাদনগরের একটি ধর্ষণ-সংক্রান্ত ঘটনায় অভিযুক্ত ফজর আলীকে সাংবাদিক মাহবুব আলম তাঁর পরিচালিত “মুরাদনগর লাইভ টিভি” ফেসবুক পেজে বিএনপির নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেন। বাদীর দাবি, এই তথ্য মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত; এর ফলে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং দলের এক হাজার কোটি টাকার মানহানি হয়েছে। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, ওই প্রতিবেদন সাম্প্রদায়িক উসকানি সৃষ্টি করেছে এবং দলের সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষতি করেছে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ধর্ষণ মামলার অভিযুক্ত ফজর আলীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। তবে এ বিষয়ে আদালতের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। ফলে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো বিচারাধীন এবং এখনো প্রমাণিত নয়।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতেই তাঁকে আটক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ জানত না যে মাহবুব আলম একজন সাংবাদিক।
ওসির এই বক্তব্যে স্থানীয় সাংবাদিকরা বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাঁদের দাবি, মাহবুব আলম দীর্ঘদিনের পরিচিত পেশাদার সাংবাদিক এবং মুরাদনগরে সুপরিচিত সংবাদকর্মী। স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে এবং তাঁর অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান।
FoEBD পর্যবেক্ষণ: বাংলাদেশে সংবাদ প্রকাশ বা মতপ্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মানহানির মামলা দায়েরের প্রবণতা নিয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিবিসি বাংলার এক বিশ্লেষণেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফৌজদারি মানহানির বিধান সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর একটি শীতল প্রভাব (chilling effect) সৃষ্টি করতে পারে এবং জনস্বার্থে প্রতিবেদন প্রকাশকে নিরুৎসাহিত করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা এবং পরবর্তী গ্রেপ্তারের ঘটনাটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
তথ্যসূত্র
- BBC News বাংলা, বাংলাদেশে মানহানি আইন ও সাংবাদিকতার ওপর এর প্রভাব (২০১৯)।
- প্রথম আলো, “কুমিল্লায় বিএনপি নেতার হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার”, ২ জুলাই ২০২৬।





