কুষ্টিয়ায় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মজমপুর এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় দৈনিক খবরওয়ালা পত্রিকার ওই দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা এবং তাদের পেশাগত সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৭ জুন দুপুরে তারা মো. রেজা চৌধুরীর বাড়ির প্রাচীর নির্মাণে অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে যান। এ সময় মো. রেজা চৌধুরী, মো. সেলিম চৌধুরী এবং আরও ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলায় ভিডিও সাংবাদিক মো. ইমরান হোসেনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। অপর সাংবাদিক মো. রঞ্জুউর রহমানকে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সাংবাদিকদের দাবি, হামলার সময় তাদের ব্যবহৃত প্যানাসনিক পিভি-১০০ মডেলের একটি ভিডিও ক্যামেরা, দুটি স্মার্টফোন, একটি মাইক্রোফোন এবং নগদ ৯ হাজার ৯৩২ টাকাসহ মোট ১ লাখ ৮৪ হাজার ৯৩২ টাকার মালামাল ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর প্রাণভয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তারা জানান।
এদিকে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খন্দকার আল মামুন সাগর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়া ইমন রুবেল, কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ এবং দৈনিক খবরওয়ালার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুন্সি শাহীন আহমেদ জুয়েলসহ স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের শনাক্তকরণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সোর্স
১. ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. ইমরান হোসেন ও মো. রঞ্জুউর রহমানের বর্ণনা ও অভিযোগ।
২. স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিক সূত্র।
৩. কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সংগঠনগুলোর প্রতিবাদ ও বিবৃতি।
৪. বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলার পূর্ববর্তী ঘটনাবলি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনসমূহ।





