রাজধানীর বকশীবাজারে সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া এলাকায় ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন দৈনিক সমকাল-এর মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক নাজমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ বুলেটিন-এর প্রতিবেদক আবদুল্লাহ আল মামুন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে সংঘর্ষের খবর সংগ্রহের সময় ইটপাটকেলের আঘাতে তারা আহত হন। পরে সহকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নাজমুল ইসলামের পায়ের গোড়ালিতে গুরুতর আঘাত লাগে। চিকিৎসকরা তার ক্ষতস্থানে সাতটি সেলাই দেন এবং পায়ে প্লাস্টার করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বাসায় পাঠানো হয় এবং তিনি বর্তমানে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রামে রয়েছেন। অপরদিকে, আহত সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল মামুন চিকিৎসা গ্রহণের পর হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
আহত সাংবাদিক নাজমুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের ছবি ও ভিডিও ধারণের সময় তিনি নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করছিলেন। সেই সময় ছোড়া একটি ইট তার পায়ের গোড়ালিতে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় সংবাদকর্মীরা পরিস্থিতির তথ্য, ছবি ও ভিডিও সংগ্রহে নিয়োজিত ছিলেন। সহিংসতার মধ্যে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি এবং অন্তত দুইজন সংবাদকর্মী আহত হন।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এই ঘটনায় সাংবাদিকদের আহত হওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পৃথক কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পর্যবেক্ষণ
জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংঘর্ষ, বিক্ষোভ বা সহিংসতা কাভার করার সময় সাংবাদিকদের নিরাপদে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্বের অংশ। দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক আহত হওয়ার ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়; এটি স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারের পরিবেশের সঙ্গেও সম্পর্কিত।
FoEBD মনে করে, এ ধরনের প্রতিটি ঘটনা যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আঘাত বা নিরাপত্তাহীনতা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তথ্যসূত্র: দৈনিক সমকাল, দৈনিক আমার দেশ, বার্তা বাজার, বাংলাদেশ বুলেটিন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র।





