জুলাই আন্দোলন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক আনিস আলমগীর, উপস্থাপিকা সোমা ইসলাম, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কলামিস্ট মোমিন মেহেদী, মডেল ও আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া, মডেল মারিয়া কিসপট্টা এবং মডেল-অভিনেত্রী তুষ্টির বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
শনিবার (৫ জুলাই) রাতে ‘রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম’-এর সদস্য মিল্লাত হোসেন থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে শাহবাগ থানা অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে গ্রহণ করে।
শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার এসআই মাজিবুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসআই আশরাফ আলীকে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাইবার-সংক্রান্ত হওয়ায় তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে বিষয়টি সাইবার ইউনিটেও পাঠানো হতে পারে।
অভিযোগে যা বলা হয়েছে
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে—
- সাংবাদিক আনিস আলমগীর কারামুক্ত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই আন্দোলন নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছেন।
- উপস্থাপিকা সোমা ইসলাম বিভিন্ন টকশোতে জুলাই আন্দোলনকে খাটো করে বক্তব্য দিয়েছেন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করেছেন।
- জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া আন্দোলনকারী ও আহত ব্যক্তিদের নিয়ে কটাক্ষ করেছেন।
- মোমিন মেহেদী জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিস্তম্ভ এলাকায় জুতা নিক্ষেপ এবং শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন।
- মারিয়া কিসপট্টা জুলাই আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসী আন্দোলন’ হিসেবে প্রচার করেছেন।
- তুষ্টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই আন্দোলনকে ‘প্রতারণার মাস’ বলে উল্লেখ করেছেন।
এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং অভিযুক্তদের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্যও গণমাধ্যমে পাওয়া যায়নি।
অন্যান্য গণমাধ্যম যা জানিয়েছে
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (বাংলা), বাংলা ট্রিবিউন, বাংলা এডিশন, বিডি জার্নাল ও ইনসাফসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জিডি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযোগটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য ও পোস্টকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট
কেবল মতামত, সমালোচনা বা রাজনৈতিক মন্তব্যের কারণে সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী বা অন্য নাগরিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ বা জিডি করা হলে তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অতীতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে কোনো বক্তব্য আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
FOEBD এই ঘটনাটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি পর্যবেক্ষণাধীন (Monitoring) মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করছে। তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত অগ্রগতির ভিত্তিতে এ ঘটনার হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করা হবে।
তথ্যসূত্র
১. বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
২. দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (বাংলা)
৩. বাংলা ট্রিবিউন
৪. শাহবাগ থানা পুলিশের গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য





