জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানি ও প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় তিন সাংবাদিক—শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার পর প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
শ্যামল দত্ত ভোরের কাগজের সম্পাদক এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। মোজাম্মেল বাবু একাত্তর টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধান সম্পাদক এবং ফারজানা রুপা একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ও উপস্থাপক।
অভিযোগ
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কয়েকজনের বক্তব্য আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ভূমিকা তৈরি করে। ওই সংবাদ সম্মেলনের পর শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ওই রাতেই আন্দোলনকারীদের মধ্যে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে।
প্রসিকিউশনের আরও অভিযোগ, ১৪ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত ওই তিন সাংবাদিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে একটি “counter-narrative” তৈরিতে ভূমিকা রাখেন।
এ ছাড়া, ২৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সম্পাদকদের সংগঠন Editors’ Guild আয়োজিত একটি বৈঠকে শ্যামল দত্ত আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্য দিয়েছিলেন—এমন অভিযোগও প্রসিকিউশন তুলেছে।
১৭ আগস্ট থেকেই মামলাটির অগ্রগতি
এর আগে ১৭ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তিন সাংবাদিককে ২৪ আগস্ট আদালতে হাজির করার জন্য জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রসিকিউশনের আবেদনের পর ওই production warrant জারি করা হয়।
তখন প্রসিকিউশন দাবি করেছিল, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় বিভিন্ন টকশো ও গণমাধ্যমের অনুষ্ঠানে তিন সাংবাদিক আন্দোলনের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং তদন্তে তাদের কথিত সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
সোমবারের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল তিন সাংবাদিককে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ২৫ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
শ্যামল দত্তের আইনজীবীর বক্তব্য
শুনানিতে শ্যামল দত্তের আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায় ট্রাইব্যুনালের কাছে বলেন, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রয়োজনীয় উপাদান নেই। তাই তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আগে বিষয়টি বিবেচনা করার আবেদন জানান তিনি।
তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলা
শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার বিরুদ্ধে এ মামলার বাইরে আরও মামলা রয়েছে। মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযানসংক্রান্ত একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাও রয়েছে। এসব মামলার অভিযোগ ও বিচারিক কার্যক্রম আলাদা।
তথ্যসূত্র: The Daily Star, প্রথম আলো, NTV, আজকের পত্রিকা, বাংলা ট্রিবিউন, ঢাকা ট্রিবিউন ও জাগো নিউজ।





