ঢাকার দোহারে সাংবাদিক মো. নুরুল ইসলাম তানিমের ওপর হামলার অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন থেকে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
৩১ আগস্ট বিকেলে দোহারের কালেমা চত্বরে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জনসমক্ষে অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
বক্তারা হামলার ঘটনায় মামলা গ্রহণ এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়ার দাবি করা হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ এবং মতপ্রকাশের পরিবেশের জন্য উদ্বেগের। তারা সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন।
হামলার অভিযোগের প্রেক্ষাপট
গত ২৯ আগস্ট দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টারে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক মো. নুরুল ইসলাম তানিমের ওপর হামলা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের টিকিট সংগ্রহের সময় পুরুষ হবার পরও নারী সারিতে গিয়ে নিয়ম ভেঙে টিকিট নেওয়াকে কেন্দ্র করে উপস্থিতদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়। দায়িত্ব পালনরত এক আনসার সদস্য এতে আপত্তি জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
দৈনিক কালবেলার দোহার উপজেলা প্রতিনিধি নুরুল ইসলাম তানিমের অভিযোগ, তিনি ঘটনাটির প্রতিবাদ করলে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর ওপর চড়াও হন এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ সময় তাঁর অসুস্থ স্ত্রী ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণের চেষ্টা করলে তাকেও লাঞ্ছিত করা হয় এবং তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় দোহার থানায় মামলা হয়েছে। দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু বকর ছিদ্দিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে এবং তাদের অবস্থান শনাক্তে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
হামলার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং দ্রুত বিচার দাবির বিষয়টি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগতভাবে স্বাধীন পরিবেশে কাজ করার অধিকারের প্রশ্নটিকে আবারও সামনে এনেছে।
তথ্যসূত্র





