নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়ায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর কর্মী নিয়োগ নিয়ে বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করা, ভিডিও ধারণে বাধা এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৫ আগস্ট লালপুর উপজেলা ছাত্রদল তিন কর্মীকে বহিষ্কার করেছে। একই সঙ্গে আন্দোলনের পর নাটোরের চার উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগের ফল স্থগিত করার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
১২ আগস্ট লালপুর ও বাগাতিপাড়ায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফল নিয়ে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ছিল, নিয়োগে অনিয়ম ও রাজনৈতিক পক্ষপাত হয়েছে। এ সময় দুই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও, বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া যায়। যুগান্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের লাইভ সম্প্রচারের সময় স্টার নিউজ টেলিভিশনের নাটোর প্রতিনিধি তারিকুল হাসানকে ধাক্কা দেওয়া ও লাঞ্ছিত করা হয়। লালপুরে এনটিভির প্রতিনিধি সজিবুল হৃদয় এবং দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি রশিদুল ইসলামকে মারধরের অভিযোগ ওঠে।
বাগাতিপাড়ায় সাংবাদিক ফজলুর রহমান, মিজানুর রহমান, খাদেমুল ইসলাম ও এনটিভির সজিবুল হৃদয়ের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলার অভিযোগ করা হয়েছে। একই ঘটনায় চ্যানেল ওয়ানের এক প্রতিনিধিকে পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রতিবাদ
সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধার প্রতিবাদে নাটোরে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন। সাংবাদিক নেতারা হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান। পাশাপাশি লালপুর ও বাগাতিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) প্রত্যাহারের দাবিতে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
ঘটনার পর সাংবাদিকদের এই প্রতিবাদ দেখায়, বিষয়টি শুধু ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধে সীমাবদ্ধ থাকেনি; স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তিন ছাত্রদল কর্মী বহিষ্কার
ঘটনার তিন দিন পর, ১৫ আগস্ট লালপুর উপজেলা ছাত্রদল সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জাহিদ হোসেন, শফিকুল ইসলাম শফিক ও মামুন আলীকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ১২ আগস্টের ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান কবির সুইট ও যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হানের স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা, ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক স্বার্থের পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ড সংগঠন মেনে নেবে না। ভবিষ্যতে নেতাকর্মীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর, প্রথম আলো, ইত্তেফাক, জাগো নিউজ২৪, বাংলা ট্রিবিউন, নয়া দিগন্ত, আমার দেশ





