নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) সংঘর্ষের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে ১৮ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হল ও পকেট গেট এলাকায় ওই সংঘর্ষ হয়। সাংবাদিকরা ঘটনাটি কাভার করতে সেখানে যান। তাদের অভিযোগ, কয়েকজন ছাত্রদল কর্মী সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেন। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও ওঠে।
দৈনিক মানবজমিনের নোবিপ্রবি প্রতিনিধি মাহী ছিদ্দীকী সিয়াম, দৈনিক কালের কণ্ঠের নোবিপ্রবি প্রতিনিধি সাদমান রাকিন এবং দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধি মেহেদী হাসান হেনস্তার শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, আতিক হাসান, তানভীর ভূঁইয়া, খাঁন মোহাম্মদ রোম্মান, ফাইসাল হোসাইন ও এমকেএম আকরাম খানসহ কয়েকজন ছাত্রদল কর্মী তাদের বাধা দেন। তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ মুছে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রতিবাদ ও বক্তব্য
ঘটনার পর নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি প্রতিবাদ জানায়। সংগঠনটির সভাপতি নাহিদুল ইসলাম প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমান বলেন, হলের প্রভোস্ট ও প্রক্টরিয়াল বডি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। এ নিয়ে প্রক্টরিয়াল বডির সভা করার কথাও জানান তিনি। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না। তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখার কথা জানান।
ঘটনার পরদিন ১৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন সাংবাদিকরা। এতে নোবিপ্রবিতে কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশ নেন। ক্যাম্পাস সাংবাদিক সংগঠনের নেতারাও কর্মসূচিতে ছিলেন। মানববন্ধন থেকে ১৮ আগস্টের ঘটনায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হেনস্তার অভিযোগের প্রতিবাদ জানানো হয়। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিও জানানো হয়।
মানববন্ধন শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। ক্যাম্পাসে সক্রিয় ৩৩ জন সাংবাদিক একযোগে স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করেন।
নিরাপদ সাংবাদিকতার দাবি
নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নাহিদুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তিনি ক্যাম্পাসে মুক্ত ও নিরাপদ সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
নোবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাদমান রাকিনও ঘটনার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, ঘটনার তথ্য-প্রমাণ ও ভিডিও ফুটেজ প্রশাসনের কাছে দেওয়া হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন ফাহাদ হোসেন, সাজিদ খান, নাঈমুর রহমান, কাউসার আহমেদ ও ফাইজা আফরোজ প্রমি।
তথ্যসূত্র: The Daily Campus; BD Today; সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বক্তব্য, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি, ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য;





