পটুয়াখালীতে হাসপাতালে তথ্য সংগ্রহে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ওই দুই সাংবাদিক হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক রাকিবুল ইসলাম তনু জানান, হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মো. হাসানুজ্জামানের বিরুদ্ধে খাবার সরবরাহে অনিয়ম এবং আউটসোর্সিং নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তথ্য নিতে তিনি বারবার চেষ্টা করেন। পূর্বে তথ্য চাইলে তাকে এড়িয়ে যাওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
পরবর্তীতে ১৫ জুন দুপুরে তিনি হাসপাতালের হিসাবরক্ষকের অফিস কক্ষে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় কথাবার্তার এক পর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি তার হাতে থাকা মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে দেয়ালে আছড়ে ভেঙে ফেলেন এবং তাকে মারধর করেন।
এরপর তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয় এবং গলায় চাপ দিয়ে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন। একই সময়ে তার সঙ্গে থাকা অপর সাংবাদিক দীপরয়কেও হেনস্তা করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে বাইরে থেকে দরজা খুলে দিলে তারা বের হওয়ার চেষ্টা করলে আবারও বাধার মুখে পড়েন এবং ধাওয়া করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, প্রেসক্লাবের সদস্য এবং সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মো. হাসানুজ্জামান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সাংবাদিক তার কক্ষে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন এবং কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। তিনি বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন।
পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সোর্স
১. ভুক্তভোগী সাংবাদিক রাকিবুল ইসলাম তনু ও দীপরয়ের বক্তব্য ও অভিযোগ
২. হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও অভিযুক্ত হিসাবরক্ষকের প্রতিক্রিয়া
৩. পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেনের বক্তব্য
৪. সদর থানার পুলিশ (ওসি মো. মনিরুজ্জামান ও এএসআই হিরণ চন্দ্র দাসের মন্তব্য)
৫. স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম: Asia Post, Asian TV, দৈনিক আজকের খবর
৬. প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সাংবাদিক সূত্র





