কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রতি হুমকি, অপমানজনক মন্তব্য এবং সংবাদ প্রকাশে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া-এর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৮ মে ২০২৬ শুক্রবার দুপুরে নাঙ্গলকোট উপজেলা মিনি হলরুমে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আমি আপনাদের সহযোগিতায় এমপি হই নাই। গত ১৭ বছর আপনাদের কাউকে নাঙ্গলকোট নিয়ে নিউজ করতে দেখি নাই। ৫৮ মাস আমার ক্ষমতা আছে। আমি যেভাবে চাই, সেভাবে চলতে হবে।”
সভায় তিনি নাঙ্গলকোট প্রেস ক্লাবের সভাপতি মজিবুর রহমান মোল্লাকে বারবার “ফ্যাসিস্টের দোসর” বলে উল্লেখ করেন এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। একপর্যায়ে তাকে ক্ষমা চাইতেও বলেন। উপস্থিত সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্য সাংবাদিকরা বক্তব্য দিতে চাইলে তাদেরও ধমক দিয়ে থামিয়ে দেওয়া হয় এবং সভায় ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ সীমিত করা হয়।
এক পর্যায়ে এমপি সাংবাদিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমি চাইলে আপনি সাংবাদিকতা করতে পারবেন না।” তিনি জাতীয় দৈনিকের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে সরিয়ে দেওয়ারও ইঙ্গিত দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সভা শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “এখানে যা কথা হয়েছে, তা যেন এখানেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়। কোনো সাংবাদিক যদি সংবাদ প্রকাশ করে, তার খবর আছে। তাকে দেখে নেওয়া হবে।” এ ধরনের বক্তব্যকে স্থানীয় সাংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি চাপ ও ভয়ভীতি হিসেবে দেখছেন।
ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে “আমার ফাঁসি চাই” শিরোনামে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে তার বক্তব্য বিতর্কিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, নাঙ্গলকোটের বিভক্ত সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে একত্রিত করার উদ্দেশ্যেই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। তবে সাংবাদিকদের একাংশ তার আচরণকে “কর্তৃত্ববাদী” এবং “গণমাধ্যমবিরোধী” বলে অভিহিত করেছেন।
বাংলাদেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সংবাদ প্রকাশে চাপ প্রয়োগের ঘটনা নতুন নয়। তবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে প্রকাশ্যে “সংবাদ প্রকাশ করলে দেখে নেওয়া হবে” ধরনের বক্তব্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্যসূত্র: জাগো নিউজ২৪, দৈনিক মানবকণ্ঠ, বাংলা টিভি।





