লালমনিরহাট শহরের রেলওয়ে মুক্তমঞ্চ এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব শেষে বিশ্রামের সময় সাংবাদিক রাসেল হকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় বিএনপি নেতা পরিচয় দেওয়া রশিদুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে মারধর করেন।
ঘটনাটি মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে ঘটে বলে জানা গেছে। রাসেল হক দৈনিক দাবানল-এর লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি। হামলার পর তিনি লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
থানায় লিখিত অভিযোগ
রাসেল হকের অভিযোগ, রশিদুল ইসলাম, শামীম মিয়াসহ ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে তিনি ওই রাতে লালমনিরহাট সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, তাঁকে বিভিন্ন সময়ে ৫০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা চাঁদা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া এবং টাকা না দিলে বাড়িতে থাকতে না দেওয়া ও মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে সংবাদ সংগ্রহ শেষে দুই সহকর্মীর সঙ্গে রেলওয়ে মুক্তমঞ্চ এলাকায় বসে ছিলেন রাসেল। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন সেখানে এসে তাঁকে ঘিরে ধরেন। তাঁর শার্টের কলার ধরে ৭৫ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে কিল-ঘুষি মারা হয়। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে গলা চেপে ধরারও অভিযোগ করেছেন রাসেল। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
অভিযোগ অস্বীকার রশিদুলের
তবে রাসেল হকের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রশিদুল ইসলাম। তাঁর দাবি, ৫ আগস্টের আগে রাসেল নিষিদ্ধ যুবলীগের ক্যাডার হিসেবে এলাকায় চাঁদাবাজি ও হয়রানি করেছেন।
এ ধরনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে কোন অভিযোগ সত্য, তা এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ।
সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিবাদ
রাসেল হকের ওপর হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ প্রেসক্লাব রংপুর বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এস আর শরিফুল ইসলাম রতন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি করেন।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ জানিয়েছেন, দুই পক্ষ থেকেই পৃথক অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পর্যবেক্ষণ
ঘটনার ভিডিও FOEBD-এর কাছে সংরক্ষিত আছে। ভিডিওতে সাংবাদিক রাসেল হকের শার্টের কলার ধরে টানাহেঁচড়া করার দৃশ্য দেখা যায়। তবে ভিডিওর দৃশ্য থেকে হামলার পুরো প্রেক্ষাপট, ঘটনার আগে-পরে কী ঘটেছিল বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো; বাংলানিউজ২৪; ঢাকা মেইল; ধাকাপ্রেস।





