পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। সংবাদ প্রকাশের জেরে এক হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত সাংবাদিককে প্রথমে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠানো হয়।
আহত মোয়াজ্জেম হোসেন স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং জাতীয় দৈনিক আজকের পত্রিকা-এর কলাপাড়া প্রতিনিধি। তাঁর অভিযোগ, ২৭ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে পৌর শহরের মাছবাজার-সংলগ্ন সদর সড়কে মোবাইল ফোন মেরামতের একটি দোকানে অবস্থানকালে উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম ফাহিম এবং সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বেলালের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর ওপর হামলা চালান।
মোয়াজ্জেম হোসেন দাবি করেন, কয়েক দিন আগে তাঁর বোনের বাড়িতে হামলার একটি ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। সেই সংবাদ প্রকাশের জের ধরেই তাঁর ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। ঘটনাস্থলের এক দোকানদারও সাংবাদিককে দোকান থেকে টেনে বাইরে এনে মারধরের অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম ফাহিম গণমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বেলাল হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি বরিশালে এলএলবি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন এবং তাঁকে পরিকল্পিতভাবে জড়ানো হচ্ছে।
ঘটনার বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব জাকারিয়া আহমেদ বলেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন শিকদারও সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে দোষীদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এদিকে, ঘটনার পর সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. বেলাল হোসেনকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
সম্পাদকীয় নোট
FoEBD এই ঘটনার তথ্য একাধিক জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং পুলিশের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে মিলিয়ে পর্যালোচনা করেছে।
এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, ভুক্তভোগীর চিকিৎসা গ্রহণ, অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের অভিযোগ অস্বীকার, পুলিশি তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের প্রাথমিক সাংগঠনিক পদক্ষেপের তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য, দায়-দায়িত্ব এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন।
সে কারণে FoEBD এই ঘটনাকে “Monitoring” হিসেবে নথিভুক্ত করেছে। এই স্ট্যাটাস কোনো পক্ষের দায় বা নির্দোষিতা নির্ধারণ করে না; বরং মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাটি পর্যবেক্ষণাধীন রয়েছে—এটি নির্দেশ করে। তদন্তের ফলাফল, আইনগত অগ্রগতি বা নতুন নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদন হালনাগাদ করা হবে।
তথ্যসূত্র
১ প্রথম আলো — পটুয়াখালীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ ছাত্রদলের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে।
২. আজকের পত্রিকা — কলাপাড়ায় সাংবাদিক মোয়াজ্জেমের ওপর ছাত্রদলের হামলা।
৩. যুগান্তর — সাংবাদিকের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ।
৪. রাইজিংবিডি — সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ।
৫. The Daily Campus — শিক্ষক ও সাংবাদিকের ওপর হামলা, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার।
৬. কালবেলা — সাংবাদিকের ওপর ছাত্রদলের হামলা





