সাতক্ষীরায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের অসহযোগিতা ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে একজন সাংবাদিককে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে এবং সাক্ষাতের পর তাকে সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে শাসানো ও চাকরি নিয়ে ‘দেখে নেওয়ার’ কথা বলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ঘটনাগুলো নিয়ে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে সংগঠনটির নির্বাহী কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজের আচরণ নিয়ে সাংবাদিকেরা বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন এবং প্রতিবাদ জানান। বিষয়টি একাধিক গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
তিন ঘণ্টা অপেক্ষার অভিযোগ
সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক এবং যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার আকরামুল ইসলাম সভায় অভিযোগ করেন, একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহের জন্য তিনি ১২ আগস্ট কলারোয়া উপজেলা ভূমি অফিসে যান। সেখানে সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি না হওয়ায় পরদিন তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান।
আকরামুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তাকে প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। পরে সাক্ষাতের সময় তিনি কারাগার থেকে পলাতক একটি হত্যা মামলার আসামি কীভাবে কলারোয়া ভূমি অফিসে মামলা পরিচালনা করছেন—এ বিষয়ে জানতে চান।
তার অভিযোগ, প্রশ্নটি করার পর জেলা প্রশাসক ক্ষুব্ধ হন। একই সময় সাংবাদিকের করা অন্য একটি প্রতিবেদনের বিষয়ও তোলা হয় এবং একপর্যায়ে যমুনা টেলিভিশনে তার চাকরি নিয়েও ‘দেখে নেওয়ার’ কথা বলা হয় বলে অভিযোগ করেন আকরামুল।
প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসকের কক্ষে উপস্থিত কয়েকজন কর্মকর্তা ওই কথোপকথন ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে ক্যামেরাপার্সনকে ক্যামেরা পরীক্ষা করতে বলেন।
অন্য সাংবাদিকদেরও অসহযোগিতার অভিযোগ
জরুরি সভায় সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাভিশন ও বাসসের জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান অভিযোগ করেন, ২৯ জুলাই সদর হাসপাতাল এলাকার দুটি ক্লিনিকে অভিযান ও জরিমানার বিষয়ে তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে সংবাদ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে গেলে সাংবাদিকদের ভর্ৎসনা করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ডিবিসি নিউজের প্রতিনিধি এম বেলাল হোসাইন অভিযোগ করেন, সংবাদসংক্রান্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসককে ফোন করে নিজের পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং সাংবাদিকদের বক্তব্য দেওয়া জেলা প্রশাসকের কাজ নয়—এমন মন্তব্য করে ফোন রেখে দেন।
মাই টিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ফয়জুল হক বাবুসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিকও একই ধরনের আচরণের শিকার হয়েছেন বলে সভায় অভিযোগ করা হয়।
আগেও সাংবাদিকদের সঙ্গে বিরোধের অভিযোগ
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজকে ঘিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে এর আগেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ১৩ মে ২০২৬-এ তার আয়োজিত একটি প্রেস ব্রিফিং প্রায় ৬০ জন সাংবাদিক বর্জন করেন। সাংবাদিকদের অভিযোগ ছিল, নির্ধারিত সময়ের আগে উপস্থিত হওয়ার পরও অনেক পেশাদার সাংবাদিক বসার জায়গা পাননি। পরে দ্বিতীয় ধাপে ব্রিফিং আয়োজনের অনুরোধ করা হলে তা নাকচ করা হয়।
তবে ওই ঘটনার সময় জেলা প্রশাসক অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছিলেন, সাংবাদিকরা নির্ধারিত সময়ের পরে উপস্থিত হওয়ায় আসনসংকট তৈরি হয়েছিল।
সাংবাদিকদের প্রতিবাদ
সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা অতীতে জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে এমন অসহযোগিতার মুখে পড়েননি। তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের কথিত আচরণকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানান।
জরুরি সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা, তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে আসে।
তথ্যসূত্র:
যমুনা টেলিভিশন, এসটার টেলিভিশন, এনপিবি নিউজ, Bangla Affairs, দৈনিক সংবাদ, সাতক্ষীরা প্রেস ব্রিফিং বর্জন সংক্রান্ত প্রতিবেদন





