ঢাকার সাভারে সংবাদ সংগ্রহের সময় লাইভে থাকা এক সাংবাদিককে পেছন থেকে পুলিশের প্রিজন ভ্যানের ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে MyTV-এর সাভার প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান খাইরুল শিকদার আহত হয়েছেন। ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃত বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ঘটনাটি সামনে এনে দিয়েছে দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং পুলিশের যান পরিচালনার সতর্কতা নিয়ে প্রশ্ন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ বুলেটিন জানায়, রোববার দুপুরে সাভার মডেল থানার ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সদস্য এসআই আলতাব হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য থানায় লাইভ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন খাইরুল শিকদার। লাইভ শুরুর প্রায় ৫৫ সেকেন্ডের মাথায় পেছন থেকে একটি প্রিজন ভ্যান তাঁকে ধাক্কা দেয়। এতে তাঁর পিঠে আঘাত লাগে।
ঘটনার একটি ভিডিওতেও দেখা যায়, সাংবাদিক ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে লাইভ করার সময় পেছন দিক থেকে পুলিশের একটি গাড়ি এগিয়ে আসে এবং তাঁর খুব কাছ দিয়ে চলে যায়। ভিডিওর দৃশ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা বলে মনে হওয়ার মতো কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই।
সাংবাদিক খাইরুল শিকদার বলেন, গাড়ি পেছনে নেওয়ার আগে চালকের লুকিং গ্লাস বা মনিটরের মাধ্যমে পেছনে কেউ অবস্থান করছেন কি না, তা নিশ্চিত করা উচিত ছিল। তাঁর ভাষ্য, আঘাতটি মাথায় লাগলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।
তবে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অসাবধানতাবশত ঘটেছে বলে জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, সামনে একটি কুকুর চলে আসায় গাড়ি পেছনে নেওয়ার সময় সাংবাদিকের গায়ে ধাক্কা লাগে। চালক এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি।
ঘটনাটি তাই শুধু একজন সাংবাদিক আহত হওয়ার বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সাংবাদিকের পরিবর্তে সেখানে একজন সাধারণ পথচারী, শিশু, বৃদ্ধ কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তি থাকলেও একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। বিশেষ করে থানার মতো নিরাপত্তা-সংবেদনশীল স্থানে পুলিশের যানবাহন চলাচলের সময় বাড়তি সতর্কতা প্রত্যাশিত।
ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃত হলেও এর মধ্য দিয়ে পুলিশের যান পরিচালনায় সতর্কতা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে, সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের অংশ। কারণ সাংবাদিকের ক্ষেত্রে ঘটনাটি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে; কিন্তু একই পরিস্থিতিতে আহত হতে পারতেন যে কোনো সাধারণ মানুষ।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ বুলেটিন, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের বক্তব্য ও ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ।





