যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের (UN) সদর দপ্তরে সিএনএনের সাংবাদিক কাইটলান কলিন্সকে প্রশ্ন করতে দেখে বলেন, ‘আপনার এখানে থাকা উচিত নয়।’ ঘটনাটি ঘটে ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ট্রাম্পের প্রবেশের সময়।
সিএনএনের প্রধান হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা কলিন্স ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ মনে করেন দেশটি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জিতছে না—এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধ কবে শেষ হবে।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি জাতিসংঘে সিএনএনের উপস্থিতি দেখে বিস্মিত। তিনি বলেন, ‘আপনার এখানে থাকা উচিত নয়। আপনি বলেছিলেন, আপনারা আমাকে কভার করবেন না।’ কলিন্স জবাব দেন, জাতিসংঘ কর্তৃপক্ষ সিএনএনকে সেখানে সংবাদ সংগ্রহের অনুমতি দিয়েছে। এরপরও ট্রাম্প বলেন, ‘আপনার এখানে থেকে আমাকে কভার করা উচিত নয়।’ সিএনএনের প্রচারিত ট্রান্সক্রিপ্টেও এই কথোপকথন প্রকাশ করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসে সিএনএনের প্রবেশাধিকার নিয়ে বিরোধ
ঘটনাটির কয়েক দিন আগে, ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প প্রশাসন সিএনএন, এমএস নাও (MS NOW) এবং পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়। ট্রাম্প এসব সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনকে ‘ফেক নিউজ’ বলে অভিহিত করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ তোলেন।
তবে হোয়াইট হাউসের এই নিষেধাজ্ঞা জাতিসংঘে প্রযোজ্য নয়। জাতিসংঘের নিজস্ব মিডিয়া অ্যাক্রেডিটেশনের মাধ্যমে সিএনএনের সাংবাদিকেরা সেখানে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ পান। Reuters-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকেরা জাতিসংঘের দেওয়া মিডিয়া পাস ব্যবহার করে ট্রাম্পের সফর কভার করেন।
সিএনএন জানিয়েছে, তারা ট্রাম্পের সংবাদ কভারেজ বন্ধ করার ঘোষণা দেয়নি এবং নিয়মিতভাবেই তাঁর কার্যক্রম কভার করবে।
আইনি লড়াই
হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বন্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে থাকা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সুরক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই মামলায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা ছিল।
জাতিসংঘে কলিন্সের সঙ্গে ট্রাম্পের কথোপকথন তাই কেবল একটি তাৎক্ষণিক বাক্যবিনিময় নয়; এটি হোয়াইট হাউস ও কয়েকটি বড় সংবাদমাধ্যমের মধ্যে চলমান প্রবেশাধিকার ও সংবাদ কভারেজের বিরোধের অংশ হিসেবেও সামনে এসেছে।
Fঘটনাটি জনসমক্ষে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকের সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ এবং সরকারি কর্মকাণ্ডে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিয়ে চলমান বিতর্কের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
তথ্যসূত্র





