সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগসহ বিভিন্ন এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ)। বুধবার (১২ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং বিচারাধীন মামলার তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার গুরুত্বপূর্ণ। তারা সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশে যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে, তা দূর করে আগের মতো সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এলআরএফের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত ৭ জানুয়ারি থেকে আপিল বিভাগের প্রধান বিচারপতির এজলাসসহ সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন বিচারকক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধার অভিযোগ রয়েছে। জানুয়ারির শেষ দিকে সংগঠনটি এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠিও দেয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা যায়, পরবর্তী মাসগুলোতেও সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে আলোচনা ও প্রতিবাদ অব্যাহত ছিল।
জানুয়ারিতে দেওয়া চিঠিতে এলআরএফ বলেছিল, আদালতের শুনানি ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। এপ্রিলেও আইনজীবীদের একটি কর্মসূচিতে সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারের বিষয়টি উঠে আসে। মে মাসে সুপ্রিম কোর্টে কর্মরত সাংবাদিকেরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ করে একই দাবি জানান।
অবস্থান কর্মসূচিতে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবীর বলেন, আদালতের বিচার কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে জানাতে গণমাধ্যমের ভূমিকা রয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের আদালতে প্রবেশের সুযোগ পুনর্বহালের আহ্বান জানান এবং বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, আদালত মানুষের অধিকার রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সাংবাদিকদের আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ না থাকলে জনগণের কাছে বিচারপ্রক্রিয়ার তথ্য পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। দাবি পূরণ না হলে আরও কর্মসূচি দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দূর করার আহ্বান জানান। তিনি সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেন।
কর্মসূচিতে সম্পাদক পরিষদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, রিপোর্টার্স এগেইনস্ট করাপশন এবং রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসিসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা সংহতি জানান।
এলআরএফ সভাপতি মুহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, দাবি মেনে নেওয়া না হলে পরবর্তী সময়ে আপিল বিভাগের বিচারকক্ষে প্রবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৫(৩) অনুচ্ছেদে ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচারের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের একটি প্রকাশিত রায়েও ৩৫(৩) অনুচ্ছেদের আলোচনায় আদালতের কার্যক্রম জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকার বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা স্বীকৃত হলেও আইন দ্বারা নির্ধারিত যুক্তিসংগত সীমাবদ্ধতার কথাও বলা হয়েছে। ফলে সাংবাদিকদের আদালতে প্রবেশাধিকার নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আদালতের নিয়ম, নির্দেশনা এবং প্রযোজ্য আইনি সীমাবদ্ধতাও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র





