হাতীবান্ধায় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় সংবাদ সংগ্রহের সময় দুই সাংবাদিককে মারধর এবং তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা থানায় অভিযোগ করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্তের কথা জানিয়েছে।
ভুক্তভোগীরা হলেন দৈনিক বিজনেস বাংলাদেশ-এর হাতীবান্ধা প্রতিনিধি সাজু ইসলাম এবং দৈনিক কালের কণ্ঠ ও এনটিভি-র হাতীবান্ধা প্রতিনিধি হাসান মাহমুদ। ঘটনাটি ৩০ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর উপজেলার ডাকবাংলো এলাকায় ঘটে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক, স্থানীয় সূত্র এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ডাকবাংলোর জমি দখল ও চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে ভবন নির্মাণের অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের তদন্ত চলাকালে দুই সাংবাদিক ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহে যান। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় দুই সাংবাদিক আহত হন এবং তাদের অন্তত একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সাজু ইসলাম অভিযোগ করেন, হামলার আগে তাঁর এক আত্মীয়কে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর দাবি, সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
অপর ভুক্তভোগী সাংবাদিক হাসান মাহমুদ বলেন, হামলার সময় তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যা প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি।
অপর ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাজু ইসলাম বলেন, হামলার সময় তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যা প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি।
হাতীবান্ধা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইলিয়াস বসুনিয়া পবন ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান এবং প্রয়োজন হলে সাংবাদিকরা কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলেও উল্লেখ করেন।
হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলী বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপ জন মিত্র জানান, জমি-সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে সরকারি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলে সেখানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা অনাকাঙ্ক্ষিত।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হামলার ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না বা ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি।
সম্পাদকীয় নোট: এই প্রতিবেদনের তথ্য ভুক্তভোগী সাংবাদিক, স্থানীয় সূত্র এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন। নতুন বা যাচাইকৃত তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
তথ্যসূত্র
১। আজকালের খবর — হাতীবান্ধায় দুই সাংবাদিককে মারধর, মোবাইল ছিনতাই।
২। হাতীবান্ধা থানা — ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর বক্তব্য।
৩। হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর বক্তব্য।





