সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর আওতায় তথ্য চেয়ে আবেদন জমা দিতে গিয়ে এক সাংবাদিক লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া, অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ দাবি করার অভিযোগও করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন অভিযোগটি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আরাফাত আলী (আরাফাত হোসেন ) অভিযোগ করেন,২ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি ২০২৪–২৫ ও ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ, ব্যয় ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত তথ্য জানতে তথ্য অধিকার আইনের নির্ধারিত ফরমে আবেদন নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, আবেদন গ্রহণের আগে পিআইও তথ্য প্রস্তুতের খরচের কথা বলে ৪ হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি সরকারি বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে কর্মকর্তা ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মিলন কুমার সাহার হস্তক্ষেপে কয়েক ঘণ্টা পর অফিস সহকারীর মাধ্যমে মোবাইল ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়।
ঘটনার পর সাংবাদিক আরাফাত আলী সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইনের আওতায় তথ্য চাওয়ার কারণে তাকে হয়রানি করা হয়েছে এবং একজন আবেদনকারী ও সংবাদকর্মী হিসেবে তার সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালীগঞ্জের সাংবাদিকরা দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তাদের মতে, তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী যে কোনো নাগরিকের তথ্য চাওয়ার অধিকার রয়েছে। তথ্য চাওয়ার কারণে কোনো আবেদনকারী বা সাংবাদিককে হয়রানি করা আইনের উদ্দেশ্য এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নীতির পরিপন্থী।
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ কাওসার আজিজ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।
তথ্যসূত্র
১. দৈনিক সংবাদ
২. দৈনিক মানবজমিন
৩. দৈনিক আলোকিত সকাল
৪. দক্ষিণের মশাল
৫. স্থানীয় সাংবাদিকদের লিখিত অভিযোগ ও প্রকাশিত তথ্য





