ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী, তিন বছরের ছেলে ও শ্বশুর নিহত হয়েছেন। ১৯ আগস্ট ভোরে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
নিহত দেবাশীষ দত্ত কুষ্টিয়ায় আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল ৯-এর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। তিনি স্থানীয় পত্রিকা আজকের আলোর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি আরও কয়েকটি গণমাধ্যমে কাজ করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহত অন্য তিনজন হলেন দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমীন, তাঁদের ছেলে শর্ণশীষ দত্ত এবং আফসানার বাবা মো. আকরাম আলী। তাঁদের বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকায়।
চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পথে
পরিবারের সদস্যদের বরাতে প্রথম আলো ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেবাশীষ ৩ আগস্ট স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ভারতে যান। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য তাঁরা বেঙ্গালুরুতে অবস্থান করছিলেন। তাঁর শ্বশুরও পরে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন।
চিকিৎসা শেষে ১৮ আগস্ট রাতে তাঁরা কলকাতায় ফেরেন এবং মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে ওঠেন। ১৯ আগস্ট তাঁদের বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই হোটেলে আগুন লাগে।
দেবাশীষের আট বছর বয়সী মেয়ে বাংলাদেশে পরিবারের সঙ্গে আছেন।
আগুনে নিহত ৯, বাংলাদেশি পাঁচজন
স্থানীয় পুলিশ ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে মোট নয়জন মারা যান। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক। নিহত বাংলাদেশিদের চারজনই কুষ্টিয়ার একই পরিবারের সদস্য। অন্যজন ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বাসিন্দা আহমেদ বাবু।
অগ্নিকাণ্ডে আরও ছয়জন বাংলাদেশি আহত হন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুন লাগার পর প্রায় ৮০ জনকে ভবনটি থেকে উদ্ধার করা হয়। দমকলের পাঁচটি গাড়ি ঘটনাস্থলে কাজ করে এবং প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘন ধোঁয়ার কারণে ভবনের ওপরের অংশে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছিল।
আগুনের কারণ এখনো নিশ্চিত নয়
আগুনের সঠিক কারণ এখনো তদন্তাধীন। রয়টার্সকে একজন পুলিশ কর্মকর্তা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আগুনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অগ্নিকাণ্ডের কারণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য গাফিলতির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
পরিবারের শোক
দেবাশীষের মৃত্যুর খবর কুষ্টিয়ায় পৌঁছানোর পর তাঁর বাড়িতে স্বজন, সহকর্মী, বন্ধু ও স্থানীয় সাংবাদিকেরা জড়ো হন। পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর আগের রাতেও দেবাশীষের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছিল এবং পরদিন দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।
দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুতে আজকের পত্রিকা শোক প্রকাশ করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো; The Business Standard; The Daily Star; Reuters; Ei Samay; Indian Express.





