বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও জনজীবনে মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের দীর্ঘ কর্মজীবন বিস্তৃত ছিল। তিনি দৈনিক ইত্তেফাকে সাংবাদিকতা করেছেন। লিখেছেন রাজনৈতিক কলাম। দায়িত্ব পালন করেছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধেও তাঁর অংশগ্রহণের কথা বিভিন্ন জীবনী ও সংবাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
২০২৬ সালের ২৪ অক্টোবর তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৭৭ বছর বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
সাংবাদিকতার শুরু দৈনিক ইত্তেফাকে
শফিকুর রহমান ১৯৪৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ এলাকার কৃষ্ণপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর সাংবাদিকতা শুরু হয় ১৯৭০ সালে। তখন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক হিসেবে দৈনিক ইত্তেফাকে কাজ শুরু করেন। ১৯৭৩ সালে পত্রিকাটির স্টাফ রিপোর্টার হন। পরে সিনিয়র রিপোর্টার ও বিশেষ সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে দৈনিক ইত্তেফাক থেকে অবসর নেন।
দীর্ঘ এই সময়ে তিনি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনাবলি নিয়ে সাংবাদিকতা করেছেন। তাঁর কর্মজীবনের বিস্তারিত মূল্যায়নের জন্য দৈনিক ইত্তেফাকের পুরোনো সংখ্যা ও সংশ্লিষ্ট নথি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
কলাম ও রাজনৈতিক লেখালেখি
সাংবাদিকতা থেকে অবসরের পরও লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শফিকুর রহমান। বিভিন্ন জীবনীতে আজকের কাগজ, ভোরের কাগজ ও দৈনিক জনকণ্ঠে তাঁর লেখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। জনকণ্ঠের ‘চতুরঙ্গ’ পাতায় তাঁর রাজনৈতিক কলাম প্রকাশিত হতো বলে বিভিন্ন আর্কাইভে দেখা যায়।
তাঁর লেখায় বাংলাদেশের রাজনীতি, দলীয় অবস্থান, সরকার, বিরোধী দল ও জাতীয় ঘটনাবলি উঠে এসেছে। তাঁর কয়েকটি পুরোনো কলামের অনলাইন কপি পাওয়া যায়।
জাতীয় প্রেসক্লাবে নেতৃত্ব
শফিকুর রহমান জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে একাধিক মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২০১৭–১৮ মেয়াদের জন্যও সভাপতি নির্বাচিত হন। ওই কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হন ফরিদা ইয়াসমিন। তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রথম নারী সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
সাংবাদিকদের পেশাগত সংগঠনে তাঁর নেতৃত্ব তাঁর কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ
বিভিন্ন জীবনী ও সংবাদ প্রতিবেদনে শফিকুর রহমানকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৭১ সালে চাঁদপুর অঞ্চলে মুজিব বাহিনীর সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কথাও কিছু প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
রাজনীতিতে প্রবেশ
দীর্ঘ সাংবাদিকতা ও সংগঠনের দায়িত্ব পালনের পর শফিকুর রহমান সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত হন।
সিটিজেন টেলিভিশনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা
শফিকুর রহমান সিটিজেন টেলিভিশনের চেয়ারম্যান ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০১৭ সালে চ্যানেলটির সম্প্রচার-সংক্রান্ত অনুমোদন নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর এই সম্পৃক্ততা তাঁর সাংবাদিকতা-পরবর্তী কর্মজীবনের আরেকটি দিক।
জীবন ও কর্মের মূল্যায়ন
মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের কর্মজীবনে সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক কলাম, সাংবাদিক সংগঠনে নেতৃত্ব, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের বিবরণ এবং রাজনীতিতে প্রবেশ—বিভিন্ন অধ্যায় রয়েছে।
তাঁর অবদান মূল্যায়নে যেমন দীর্ঘ সাংবাদিকতা ও লেখালেখির ইতিহাস বিবেচনা করা প্রয়োজন, তেমনি রাজনৈতিক জীবনের বিতর্ক ও নির্বাচনী প্রেক্ষাপটও তথ্যের ভিত্তিতে দেখা দরকার। কোনো পদ বা পরিচয় একাই তাঁর অবদানের পূর্ণ মূল্যায়ন নয়।
তাঁর প্রকাশিত লেখার পূর্ণাঙ্গ তালিকা, দৈনিক ইত্তেফাকের আর্কাইভ, জাতীয় প্রেসক্লাবের নথি এবং মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত সরকারি দলিল একত্র করা গেলে তাঁর জীবন ও কর্মের আরও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়ন সম্ভব হবে।
তথ্যসূত্র
- যুগান্তর/জাগো নিউজের জীবনীমূলক প্রতিবেদন
- জাতীয় প্রেসক্লাবের নির্বাচন নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন
- জাতীয় প্রেসক্লাবের নির্বাচন নিয়ে bdnews24-এর প্রতিবেদন
- মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিকদের নিয়ে বাসসের প্রতিবেদন
- সিটিজেন টিভির সম্প্রচার-অনুমোদন নিয়ে bdnews24-এর প্রতিবেদন
- ২০১৮ সালের নির্বাচনে তাঁর জয় নিয়ে প্রথম আলোর প্রতিবেদন
- সংসদ সদস্য হিসেবে পুরোনো সংসদীয় প্রোফাইল
- জনকণ্ঠের ই-পেপার আর্কাইভ
- দৈনিক ইত্তেফাকের আর্কাইভ





