বরগুনার আমতলীতে একটি সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দৈনিক কালবেলার স্থানীয় প্রতিনিধি মো. মনিরুল ইসলাম পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা, লাঞ্ছনা ও হুমকির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় তিনি আমতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডি নম্বর ১২৬৪।
গত ৩০ আগস্ট দুপুর প্রায় ২টার দিকে আমতলী পৌর কার্যালয়ের সামনের কেন্দ্রীয় লেকে নির্মাণাধীন ওয়াকওয়ের ঢালাই চলাকালে রডের চালিসহ একটি অংশ দেবে যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান মো. মনিরুল ইসলাম। তিনি বরগুনা রিপোর্টার্স ইউনিটির সহ-সভাপতি এবং দৈনিক কালবেলার আমতলী প্রতিনিধি।
স্থানীয়ভাবে আলোচিত কেন্দ্রীয় লেকের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জিডির অভিযোগ অনুযায়ী, ভিডিও ধারণ শুরু করলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে তার পেশাগত কাজে বাধা দেন। এ সময় তার লোগোযুক্ত ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জিডিতে আমতলী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মশিউর রহমান এবং ঠিকাদারের সহযোগী মো. পানু মোল্লার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জিডিটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এলজিসিআরআরপি প্রকল্পের আওতায় আমতলী পৌরসভার কেন্দ্রীয় লেকের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩২৩ টাকা। নির্মাণকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন ওঠার মধ্যেই ৩০ আগস্ট নির্মাণাধীন ওয়াকওয়ের একটি অংশ দেবে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রকল্পের অনিয়মসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ভিন্ন রয়েছে।
তথ্যসূত্র: দৈনিক কালবেলা, প্রিন্ট সংস্করণ, ৩১ আগস্ট ২০২৬, তৃতীয় মাত্রা, ঢাকা এক্সপ্রেস, ক্রাইম বিডি,





