আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ফেডারেশন (IFJ) এবং বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরাম (BMSF) সাংবাদিক এ এইচ এম ফারুকের বিরুদ্ধে করা দুটি মামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যৌথ বিবৃতিতে সংগঠন দুটি মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। সাংবাদিক হয়রানি এবং ফোন নজরদারি বন্ধেরও আহ্বান জানিয়েছে তারা।
এ এইচ এম ফারুক সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক গবেষক। তিনি বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) স্থায়ী সদস্য।
দুটি মামলা
খাগড়াছড়ি সদর থানায় ফারুকের বিরুদ্ধে মামলা দুটি করা হয় ৩০ আগস্ট। মামলা দুটি যথাক্রমে ১৭ ও ১৮ নম্বরে নথিভুক্ত হয়েছে।
প্রথম মামলাটি করেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার। তিনি বর্তমানে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য। মামলায় ফারুকের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ আনা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখির অভিযোগও রয়েছে।
দ্বিতীয় মামলাটি করেন এইচ এম প্রফুল্ল। তিনি খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাভিশনের জেলা প্রতিনিধি। এই মামলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর বক্তব্য প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি মোহাম্মদ কায় কিসলু বলেন, মামলা দুটি সাইবার-সংক্রান্ত। তদন্ত চলছে।
সাংবাদিক এ এইচ এম ফারুকের বক্তব্য
ফারুক মামলা দুটিকে হয়রানির চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তাঁর দাবি, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ নিয়ে তিনি লেখালেখি করেছেন। এসব লেখায় অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন। এর জেরে প্রভাবশালী একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ফারুক আরও অভিযোগ করেছেন, তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের ফোন নজরদারি বা ট্র্যাকিং করা হচ্ছে।
IFJ ও BMSF-এর প্রতিক্রিয়া
IFJ ও BMSF বলেছে, সাংবাদিকদের দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে কথা বলার কারণে তথ্যপ্রযুক্তি আইন ব্যবহার করে হয়রানি করা উদ্বেগজনক। সংগঠন দুটি মামলাগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ফারুক ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে কথিত ফোন নজরদারি ও হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে তারা। সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং দুর্নীতি নিয়ে মন্তব্যের অধিকার নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়েছে।
ক্র্যাবের প্রতিবাদ
২৯ সেপ্টেম্বর ফারুকের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে প্রতিবাদ জানায় ক্র্যাব। সংগঠনটির সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল এবং সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ্ যৌথ বিবৃতিতে মামলা দুটিকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বলে উল্লেখ করেন। ক্র্যাবের দাবি, মামলা করার আগে অভিযোগের সুনির্দিষ্টতা এবং প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। সংগঠনটি মামলা দুটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
তথ্যসূত্র





