ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সাংবাদিকদের বহন করা একটি মাইক্রোবাস আটকে পৌরসভার ইজারার নামে টাকা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আসাদুজ্জামান বিপ্লবের বিরুদ্ধে। তিনি নবীনগর পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নবীনগর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের আলিয়াবাদ মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান ও উপজেলা প্রশাসন ইজারা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
সাত টেলিভিশনের সাংবাদিক ছিলেন গাড়িতে
বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাইক্রোবাসটিতে এটিএন নিউজ, সময় টিভি, একাত্তর টিভি, চ্যানেল ২৪, এখন টিভি, এসএ টিভি ও চ্যানেল ওয়ানের সাংবাদিকেরা ছিলেন। তাঁরা সংবাদ সংগ্রহের কাজে নবীনগর এলাকায় যাচ্ছিলেন।
খবরের কাগজ ও জাগো নিউজ ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পথে আলিয়াবাদ মোড়ে এক যুবক গাড়িটি থামিয়ে পৌরসভার ইজারার টাকা দাবি করেন। সাংবাদিকেরা তাঁদের গাড়ি ইজারার আওতামুক্ত বলে জানান। এরপর ওই যুবক গাড়িটি আটকে রেখে আসাদুজ্জামান বিপ্লবকে ডেকে আনেন।
অসৌজন্যমূলক আচরণ ও ভয় দেখানোর অভিযোগ
সাংবাদিকদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে এসে বিপ্লব তাঁদের সঙ্গে তর্কে জড়ান। তিনি অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলেন এবং একপর্যায়ে মারতে উদ্যত হন। তিনি নিজের মুঠোফোন দিয়ে সাংবাদিকদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন বলেও বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবাদিকেরা তাঁর পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে নবীনগর উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক ও ইজারাদার জাবেদুল ইসলামের প্রতিনিধি বলে পরিচয় দেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিপ্লব নিজেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের ভাতিজা পরিচয় দিয়েও সাংবাদিকদের ভয় দেখান।
তবে আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, আসাদুজ্জামান বিপ্লব নামে তাঁর কোনো ভাতিজা নেই।
ইজারা বাতিলের উদ্যোগ
ঘটনার বিষয়ে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক রাকিবুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের গাড়ি থেকে ইজারার টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। ইজারাদারের লোকজনের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ইজারা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।
সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানও ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে ইজারা বাতিলের কথা জানিয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইজারাদার জাবেদুল ইসলামও সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিপ্লবকে এ আচরণের জন্য ভর্ৎসনা করা হয়েছে। ইউএনও ও সংসদ সদস্য তাঁকে ইজারা বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। জাবেদুল ইসলাম আরও বলেন, ইজারা বাতিল হলে তিনি ইতিবাচকভাবে নেবেন। ইজারা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত সম্মান ও দলের ভাবমূর্তির সঙ্গেও জড়িত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
যুবদলের বক্তব্য
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মাহমুদ বলেন, আসাদুজ্জামান বিপ্লব নবীনগর পৌর যুবদলের সাবেক নেতা। বর্তমানে যুবদলে তাঁর কোনো পদ নেই। ঘটনাটি সম্পর্কে তাঁরা অবগত হয়েছেন এবং ভবিষ্যতে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে।
ইজারার টাকা আদায়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয় সূত্রের বরাতে বাংলা ট্রিবিউন ও বার্তা বাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলিয়াবাদ মোড়ে পৌরসভার নামে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও মাইক্রোবাস থেকে প্রতিদিন ৪০ টাকা করে আদায় করা হয়। প্রতিদিন কয়েক শ যানবাহন থেকে এ অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পথে বাধা ও তাঁদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগটি তাই শুধু ব্যক্তিগত আচরণের প্রশ্ন নয়। এ ঘটনায় ইজারার বৈধতা, অর্থ আদায়ের নিয়ম এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যসূত্র
১. বাংলা ট্রিবিউন — এমপির ভাতিজা পরিচয়ে সাংবাদিকদের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ
২. খবরের কাগজ — নবীনগরে সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে যুবদল নেতার চাঁদা আদায়ের চেষ্টা
৩. জাগো নিউজ ২৪ — সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে যুবদল নেতার চাঁদা আদায়ের চেষ্টা
৪. দেশ টিভি — সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে চাঁদা দাবির অভিযোগ
৫. বার্তা বাজার — এমপির ভাতিজা পরিচয়ে সাংবাদিকদের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ
৬. টাইমস টুডে — সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে এমপির ভাতিজা পরিচয়ে চাঁদা দাবি
৭. প্রথম দর্পণ — এমপির ভাতিজা পরিচয়ে সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে চাঁদা দাবির অভিযোগ





