সাতক্ষীরার দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। ১৫ অক্টোবর রাতে তাঁর বড় ভাই জলিল সানা বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ২০০ থেকে ২৫০ জনকে।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন প্রথম আলো ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমকে জানান, মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী। তাঁর বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে লোকজন জড়ো করে শামীমের ওপর হামলায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছিল।
ফেসবুক লাইভে লোক জড়ো করার আহ্বান
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শামীমের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ফজলুল হক আমিনী নিজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে দুটি লাইভ করেন।
প্রথম আলো প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৩ অক্টোবর বিকেল ৩টা ৩১ মিনিটে করা প্রথম লাইভটি প্রায় ১৯ মিনিটের ছিল। দ্বিতীয় লাইভটি শুরু হয় বিকেল ৫টা ৩১ মিনিটে। সেটি করা হয় কুলিয়া এলাকায় এক পল্লিচিকিৎসকের চেম্বারের সামনে, যেখানে শামীম চিকিৎসাধীন ছিলেন।
লাইভগুলোতে আমিনীকে লোকজনকে সেখানে আসার আহ্বান জানাতে দেখা যায়। পরে সেখানে লোকজন জড়ো হয়। শামীমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের আগেই তাঁকে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য চিকিৎসককে চাপ দেওয়ার বিবরণও প্রথম আলোর প্রতিবেদনে এসেছে।
দুই দফা হামলা, পরে মৃত্যু
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যার আগে কুলিয়া এলাকায় প্রথম দফায় শামীমের ওপর হামলা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
রাতের দিকে একদল লোক মিছিল নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায়। সেখানে শামীমের ওপর আবার হামলা হয়। তাঁকে হাসপাতালের বাইরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে মারধর করার কথাও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসেছে। পরে শামীমকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
শামীমের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু কোনো অভিযোগই কাউকে পিটিয়ে হত্যা করার বৈধতা দেয় না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অপরাধের বিচার করার দায়িত্ব আইনগত কর্তৃপক্ষ ও আদালতের।
মামলা নথিভুক্ত হওয়া তদন্তের একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অভিযোগের ভিত্তিতে যেন আর কেউ জনতার সহিংসতার শিকার না হন, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা জরুরি।
তথ্যসূত্র
১. প্রথম আলো — সাতক্ষীরায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা: ফেসবুক লাইভ করে লোক জড়ো করা হয়
২. প্রথম আলো — সাতক্ষীরায় যুবককে পিটুনি, হাসপাতাল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে আবার মারধর, পরে মৃত্যু
৪. যমুনা টেলিভিশন — সাতক্ষীরায় গণপিটুনিতে যুবক নিহতের ঘটনায় মামলা





