October 29, 2026 2:38 pm
October 29, 2026 2:38 pm

শহীদ সাংবাদিক শেখ হাবিবুর রহমান: ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধে আত্মদান

শহীদ সাংবাদিক শেখ হাবিবুর রহমান: ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধে আত্মদান

শহীদ সাংবাদিক শেখ হাবিবুর রহমান: ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধে আত্মদান রয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এমন অনেক সাংবাদিক আছেন, যাঁদের জীবন কেবল সংবাদপত্রের পাতায় সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তাঁরা নিজেরাই হয়ে উঠেছিলেন ইতিহাসের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী। তাঁরা কলম দিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লিখেছেন, জনগণকে সত্য জানাতে কাজ করেছেন এবং প্রয়োজন হলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের হাতে নিহত বা নিখোঁজ হওয়া এসব সাংবাদিকের অনেকের জীবন আজও পর্যাপ্তভাবে নথিভুক্ত হয়নি।

শহীদ সাংবাদিক শেখ হাবিবুর রহমান তাঁদেরই একজন।

তিনি ছিলেন ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় সমর্থক, পেশায় সাংবাদিক, ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, আইনজীবী এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত এক বুদ্ধিজীবী। তাঁর জীবনের বিভিন্ন অধ্যায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

শেখ হাবিবুর রহমানের জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল—তিনি কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। পাকিস্তানি শাসনামলে সরকারি চাকরিতে থাকাকালেও ভাষা আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তাঁকে কারাবরণ করতে হয়েছিল। পরে সরকারি চাকরি ছেড়ে আইন পেশায় যোগ দেন এবং একই সঙ্গে সাংবাদিকতা শুরু করেন। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক তিনি দৈনিক আজাদ-এর ঝিনাইদহ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর প্রতিবাদী লেখনী, সত্যভাষী চরিত্র এবং জনস্বার্থে আপসহীন অবস্থানের কারণে তিনি স্থানীয় মানুষের কাছে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে শেখ হাবিবুর রহমান ঝিনাইদহে প্রতিরোধ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী শহর দখল করার পরও তিনি নীরব থাকেননি। বরং দখলদার বাহিনীর হত্যা, নির্যাতন ও লুটপাটের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানাতে শহরে ফিরে আসেন। এই সাহসী সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবনের মূল্য দাবি করে।

পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে আটক করে কয়েক দিন ধরে নির্মম নির্যাতন চালায়। ১৯৭১ সালের ৯ মে তাঁকে হত্যা করা হয়। তাঁর মরদেহ ঝিনাইদহ শহরের উপকণ্ঠে তেঁতুলতলা এলাকায় ফেলে রাখা হলেও পরিবারের সদস্যরা তা উদ্ধার করতে পারেননি। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ভয়ভীতি ও দমন-পীড়নের কারণে স্থানীয় মানুষও তখন তাঁর মরদেহ দাফন করার সাহস পাননি।

আজ স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পরে শেখ হাবিবুর রহমান শুধু একজন শহীদ সাংবাদিক নন; তিনি বাংলাদেশের স্বাধীন সাংবাদিকতা, ভাষা আন্দোলন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংগ্রামের অন্যতম প্রতীক।

FoEBD-এর এই আর্কাইভ নিবন্ধে তাঁর জীবন, সাংবাদিকতা, ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, হত্যাকাণ্ড এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিয়ে বর্তমানে পাওয়া নির্ভরযোগ্য তথ্যসমূহ একত্র করা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব তথ্য এখনো অসম্পূর্ণ বা গবেষণার অপেক্ষায় রয়েছে, সেগুলোকেও স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে এই নথি আরও সমৃদ্ধ করা যায়।

জন্ম, পরিবার ও শৈশব

শেখ হাবিবুর রহমান ১৯১৯ সালে তৎকালীন খুলনা জেলার (বর্তমান বাগেরহাট জেলা) বাদেকাড়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাসও এই গ্রামেই। তাঁর বাবা শেখ আবদুল খালেক এবং মা লুৎফুননেছা খাতুন। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ সন্তান। পারিবারিক পরিবেশ ছিল শিক্ষানুরাগী এবং নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ। ছোটবেলা থেকেই তিনি সত্যবাদিতা, দায়িত্ববোধ এবং নেতৃত্বের গুণাবলির পরিচয় দেন—যা পরবর্তী জীবনে তাঁর সাংবাদিকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

তাঁর ছেলে, সাংবাদিক শেখ মিজানুর রহমান, স্মৃতিচারণে লিখেছেন যে, পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি শুধু একজন অভিভাবকই ছিলেন না; ছিলেন ন্যায়পরায়ণ, সাহসী এবং অত্যন্ত মানবিক একজন মানুষ। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন সাদাসিধে, কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলেন আপসহীন।

শিক্ষাজীবন ও যুদ্ধের অভিজ্ঞতা

শেখ হাবিবুর রহমান বাগেরহাটের যদুনাথ ইনস্টিটিউশন থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। এরপর তিনি বাগেরহাট পি.সি. কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁর উচ্চশিক্ষা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

এ সময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং বার্মা ফ্রন্টে দায়িত্ব পালন করেন। এই সামরিক অভিজ্ঞতা তাঁর ব্যক্তিত্বকে আরও দৃঢ় করে তোলে। শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব এবং সংকট মোকাবিলার যে সক্ষমতা তিনি পরবর্তী জীবনে দেখিয়েছেন, তার পেছনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতারও ভূমিকা ছিল বলে গবেষকদের ধারণা। তবে যুদ্ধ শেষে তিনি সামরিক জীবন বেছে নেননি। দেশে ফিরে তিনি জনগণের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথই বেছে নেন—যে পথ তাঁকে পরে ভাষা আন্দোলন, সাংবাদিকতা এবং মুক্তিযুদ্ধের দিকে নিয়ে যায়।

ভাষা আন্দোলন: সরকারি চাকরির চেয়ে বড় ছিল মাতৃভাষার অধিকার

১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পূর্ব বাংলার মানুষের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত অধিকার দ্রুত সংকুচিত হতে থাকে। উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার উদ্যোগের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলায় যে গণআন্দোলনের সূচনা হয়, শেখ হাবিবুর রহমান ছিলেন তার একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী।

১৯৪৯ সালে তিনি ঝিনাইদহে সাব-ডিভিশনাল অ্যাডজুট্যান্ট অব আনসার পদে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। এটি ছিল একটি দায়িত্বপূর্ণ সরকারি পদ। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তিনি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবির প্রতি নিজের সমর্থন গোপন করেননি।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি প্রকাশ্যে বাংলা ভাষার দাবির পক্ষে অবস্থান নেন। ঝিনাইদহে ভাষা আন্দোলনের সংগঠন ও কর্মসূচিতে তিনি সম্মুখসারিতে ছিলেন। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে এটি ছিল অত্যন্ত সাহসী সিদ্ধান্ত, কারণ সে সময় পাকিস্তান সরকার ভাষা আন্দোলনকে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখত।

ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কারাবরণ করতে হয়। এই ঘটনাই তাঁর জীবনের একটি বড় মোড় ঘুরিয়ে দেয়। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি সরকারি চাকরিতে আর ফিরে যাননি। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে তিনি বেছে নেন স্বাধীন পেশা এবং জনমানুষের পাশে থাকার পথ।

আইন পেশা ও সাংবাদিকতায় নতুন যাত্রা

সরকারি চাকরি ছেড়ে শেখ হাবিবুর রহমান ঝিনাইদহে আইন পেশায় যুক্ত হন। তবে আদালতের সীমাবদ্ধ পরিবেশ তাঁর কর্মপরিধিকে আটকে রাখতে পারেনি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, সমাজে অন্যায়, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সংবাদমাধ্যম একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। ১৯৫২ সালেই তিনি দেশের অন্যতম প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক আজাদ-এর ঝিনাইদহের নিজস্ব সংবাদদাতা হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন।

তৎকালীন সময়ে জেলা পর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ ছিল অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা ছিল না, সংবাদ পাঠানোর জন্য নির্ভর করতে হতো ডাক, টেলিগ্রাম বা সীমিত টেলিফোন সুবিধার ওপর। তবুও শেখ হাবিবুর রহমান নিয়মিত ঝিনাইদহের রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক নানা ঘটনা জাতীয় পত্রিকায় তুলে ধরতেন। পরবর্তী প্রায় দুই দশক তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করেন।

ঝিনাইদহের প্রথম পেশাদার সাংবাদিকদের একজন

স্থানীয় ইতিহাস ও বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, শেখ হাবিবুর রহমানকে ঝিনাইদহের প্রথম পেশাদার সাংবাদিকদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকতা তখনো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গড়ে ওঠেনি। সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই এবং জাতীয় পর্যায়ে পাঠানোর পুরো দায়িত্বই প্রায় এককভাবে পালন করতেন তিনি। সাংবাদিকতার প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ ছিল অত্যন্ত দৃঢ়। তিনি বিশ্বাস করতেন, সংবাদপত্র কেবল তথ্য প্রকাশের মাধ্যম নয়; এটি জনগণের অধিকার রক্ষারও একটি প্রতিষ্ঠান।

এই বিশ্বাস থেকেই তিনি স্থানীয় মানুষের সমস্যা, প্রশাসনিক অনিয়ম, সামাজিক বৈষম্য এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে লিখে গেছেন।

ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠা

সাংবাদিকদের পেশাগত বিকাশ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে শেখ হাবিবুর রহমান ঝিনাইদহে সাংবাদিকদের একটি সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। পরবর্তীকালে তিনি ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নির্বাচিত হন।

এটি শুধু একটি সাংগঠনিক পদ ছিল না; বরং জেলার সাংবাদিক সমাজকে একটি পেশাগত পরিচয়ের আওতায় নিয়ে আসার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ছিল। তাঁর নেতৃত্বে প্রেস ক্লাব স্থানীয় সাংবাদিকদের জন্য মতবিনিময়, পেশাগত সহযোগিতা এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে। আজও ঝিনাইদহের সাংবাদিকতার ইতিহাসে তাঁর এই অবদান বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।

সত্যভাষী সাংবাদিক হিসেবে পরিচিতি

শেখ হাবিবুর রহমানের সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাঁর আপসহীন সততা। প্রথম আলোর প্রতিবেদন এবং পারিবারিক স্মৃতিচারণে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি ছিলেন একজন প্রতিবাদী ও সত্যভাষী সাংবাদিক। পাকিস্তানি শাসনামলে ক্ষমতাসীনদের অন্যায়, দুর্নীতি এবং জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে তিনি কখনো দ্বিধা করেননি। এই কারণে তাঁকে একাধিকবার সরকারি অসন্তোষের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনিক হয়রানি ও চাপেরও শিকার হন। কিন্তু তিনি তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করেননি। ঝিনাইদহের সাধারণ মানুষের কাছে তিনি শুধু একজন সংবাদদাতা ছিলেন না; ছিলেন এমন একজন ব্যক্তি, যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ভয়ে কথা বলতেন।

এই নির্ভীক অবস্থানই তাঁকে স্থানীয়ভাবে বিশেষ সম্মান এনে দেয়, আবার একই সঙ্গে পাকিস্তানি সামরিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের নজরেও নিয়ে আসে।

সাংবাদিকতা ছিল জনসেবার একটি মাধ্যম

শেখ হাবিবুর রহমানের ছেলে শেখ মিজানুর রহমান তাঁর স্মৃতিচারণে লিখেছেন, তাঁর বাবা সাংবাদিকতাকে কখনো ব্যক্তিগত পরিচিতি বা পেশাগত সাফল্যের মাধ্যম হিসেবে দেখেননি। তিনি বিশ্বাস করতেন, একজন সাংবাদিকের প্রথম দায়িত্ব মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তাই সংবাদ সংগ্রহের পাশাপাশি তিনি সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার, ভাষার অধিকার, নাগরিক স্বাধীনতা এবং সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নেও সরব থাকতেন। এই মূল্যবোধই পরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর অবস্থানকে আরও সুস্পষ্ট করে তোলে।

মুক্তিযুদ্ধে শেখ হাবিবুর রহমান: কলম থেকে প্রতিরোধের কণ্ঠস্বর

১৯৭১ সালের মার্চে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনার মাধ্যমে বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে দমন করার চেষ্টা করে। ঢাকাসহ সারা দেশে শুরু হয় নির্বিচার গণহত্যা। অল্প সময়ের মধ্যেই এই দমন-পীড়ন জেলা শহর ও গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে।

ঝিনাইদহ ছিল মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। স্থানীয় ছাত্র, যুবক, রাজনৈতিক কর্মী, আনসার সদস্য এবং সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। শেখ হাবিবুর রহমানও এই প্রতিরোধ আন্দোলনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত হন।

তাঁর ছেলে শেখ মিজানুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৫ মার্চের পর ঝিনাইদহের সংগ্রামী মানুষ সংগঠিত হয়ে যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তাঁর বাবা সেই উদ্যোগের অন্যতম সক্রিয় অংশ ছিলেন।তবে স্থানীয় জনগণের সীমিত অস্ত্র ও সামর্থ্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের সামনে বেশিদিন টিকতে পারেনি।

ঝিনাইদহের পতন

১৯৭১ সালের ১৬ এপ্রিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঝিনাইদহ শহরের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। শহর দখলের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় পরিকল্পিত হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার অভিযান। সাংবাদিক, শিক্ষক, আইনজীবী, রাজনৈতিক নেতা এবং সাংস্কৃতিক কর্মীরা পাকিস্তানি বাহিনীর বিশেষ নজরদারির মধ্যে চলে আসেন। এই পরিস্থিতিতে শেখ হাবিবুর রহমান আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন। তিনি ঝিনাইদহ শহর ছেড়ে কয়েক মাইল দূরের হলিধানি গ্রামে আশ্রয় নেন।

তাঁর আত্মগোপন কোনো ভীতির কারণে ছিল না; বরং প্রতিরোধ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জীবন রক্ষার একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত ছিল।

নীরব থাকতে পারেননি

হলিধানিতে আশ্রয় নেওয়ার পরও শেখ হাবিবুর রহমান দীর্ঘদিন নিশ্চুপ থাকতে পারেননি। প্রথম আলোর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে সাধারণ মানুষের হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের খবর তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব থাকা মানে সেই অন্যায়ের কাছে আত্মসমর্পণ করা। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি আত্মগোপনে থেকে নিরাপদ জীবন বেছে নেননি। ১৯৭১ সালের ১ অথবা ২ মে তিনি আবার ঝিনাইদহ শহরে ফিরে আসেন।

উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো এবং স্থানীয় মানুষের পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া। এটাই ছিল তাঁর জীবনের শেষ স্বাধীন পদচারণা।

পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার

শহরে ফিরে আসার অল্প সময়ের মধ্যেই পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে আটক করে। তাঁর পরিচয় তাদের অজানা ছিল না। তিনি ছিলেন—ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী, পাকিস্তানবিরোধী স্পষ্ট অবস্থানের সাংবাদিক, দীর্ঘদিনের জননেতৃত্বের প্রতীক, এবং ঝিনাইদহের একজন সুপরিচিত সত্যভাষী ব্যক্তি।

এই কারণেই তাঁকে সাধারণ কোনো নাগরিক হিসেবে দেখা হয়নি; বরং পাকিস্তানি সামরিক প্রশাসনের চোখে তিনি ছিলেন প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারের পর তাঁকে পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।

কয়েক দিনের অমানবিক নির্যাতন

প্রথম আলো ও পারিবারিক স্মৃতিচারণে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর শেখ হাবিবুর রহমানকে কয়েক দিন ধরে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। যদিও নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট বিবরণ কোনো নির্ভরযোগ্য নথিতে সংরক্ষিত হয়নি, তবে বিভিন্ন সাক্ষ্যে এটুকু স্পষ্ট যে, তাঁকে নির্মমভাবে অত্যাচার করা হয়েছিল। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্যাতন পদ্ধতির যে নথিভুক্ত ইতিহাস রয়েছে, তার সঙ্গে এই ঘটনারও স্পষ্ট মিল পাওয়া যায়।

৯ মে ১৯৭১: এক সাংবাদিকের শহীদ হওয়া

কয়েক দিন নির্যাতনের পর ১৯৭১ সালের ৯ মে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী শেখ হাবিবুর রহমানকে হত্যা করে। প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী, তাঁর মরদেহ ঝিনাইদহ শহর থেকে প্রায় চার মাইল দূরে তেঁতুলতলা নামক স্থানে ফেলে রাখা হয়। কিন্তু সেখানেও শেষ হয়নি পরিবারের দুর্ভোগ। পাকিস্তানি সেনারা স্থানীয় মানুষকে হুমকি দেয়, যাতে কেউ মরদেহের কাছে না যায় কিংবা দাফনের চেষ্টা না করে। ফলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করতে পারেননি। স্থানীয় গ্রামবাসীরাও ভয়ে এগিয়ে আসতে পারেননি। ফলে শেখ হাবিবুর রহমানের দাফন কোথায় এবং কীভাবে হয়েছিল, সে সম্পর্কেও আজ নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায় না।

একটি পরিবারের আজীবনের বেদনা

শেখ মিজানুর রহমান তাঁর স্মৃতিচারণে লিখেছেন, পরিবার কখনো তাঁর বাবার মরদেহ ফিরে পায়নি। একজন শহীদ সাংবাদিকের জন্য এটি ছিল সবচেয়ে বেদনাদায়ক পরিণতি। স্বাধীনতার পর দেশ স্বাধীন হলেও পরিবার তাঁদের প্রিয় মানুষটির শেষ বিদায় জানানোর সুযোগ পায়নি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা নিখোঁজ বা হত্যার পর অচিহ্নিত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিলেন, শেখ হাবিবুর রহমান তাঁদেরই একজন।

তাঁর এই ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি একই সঙ্গে একটি জাতীয় ইতিহাসের অংশ—যেখানে সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো একজন সাংবাদিককে নীরব করতে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী নির্মম হত্যার পথ বেছে নিয়েছিল।

স্বাধীনতার পর: স্মৃতির আড়ালে এক শহীদ সাংবাদিক

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী অসংখ্য বীরের নাম রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, অনেক সাংবাদিকের অবদান দীর্ঘদিন পর্যাপ্তভাবে আলোচনায় আসেনি। শেখ হাবিবুর রহমানও তাঁদের একজন। তাঁর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি ছিল না; ঝিনাইদহের সাংবাদিক সমাজ, ভাষা আন্দোলনের কর্মী এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের পক্ষে দাঁড়ানো মানুষের জন্যও ছিল এক গভীর শোকের ঘটনা।

যে মানুষটি প্রায় দুই দশক ধরে কলম দিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশে তাঁর অবদান ধীরে ধীরে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত হতে শুরু করে।

তেঁতুলতলার স্মৃতিসৌধ

যেখানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী শেখ হাবিবুর রহমানের মরদেহ ফেলে রেখে গিয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে, স্বাধীনতার পর সেই তেঁতুলতলা এলাকায় তাঁর স্মরণে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। এই স্মৃতিসৌধ শুধু একজন শহীদ সাংবাদিককে স্মরণ করার জন্য নয়; এটি ১৯৭১ সালে ঝিনাইদহে সংঘটিত পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতারও একটি ঐতিহাসিক সাক্ষ্য।

প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে স্থানীয় মানুষ, সাংবাদিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতি

শেখ হাবিবুর রহমানের সাংবাদিকতা জীবনের গুরুত্ব বিবেচনা করে ১৯৭৮ সালে ঝিনাইদহ শিল্পকলা একাডেমি তাঁকে মরণোত্তর সাংবাদিকতা পদক প্রদান করে। এটি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথমদিকের স্থানীয় স্বীকৃতিগুলোর একটি, যা প্রমাণ করে—তাঁর সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ প্রকাশে সীমাবদ্ধ ছিল না; সমাজে সত্য, ন্যায় ও গণমানুষের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্যও তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন।

এছাড়া ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তাঁর অবদান স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

পরিবারের উত্তরাধিকার

শেখ হাবিবুর রহমানের পরিবারও সমাজসেবামূলক ও পেশাগত ক্ষেত্রে তাঁর আদর্শকে বহন করে চলেছে। তাঁর বড় ছেলে শেখ মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। তিনি ঝিনাইদহ থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক চলন্তিকা পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বাবার জীবন ও আদর্শ নিয়ে মূল্যবান স্মৃতিচারণ লিখেছেন, যা আজ গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক উৎস। তাঁর ছোট ছেলে শেখ ওয়াসিকুর রহমান ব্যাংকিং পেশায় কর্মরত ছিলেন এবং পরে অবসর গ্রহণ করেন।

পরিবারের সদস্যদের স্মৃতিচারণে শেখ হাবিবুর রহমানের যে চিত্র উঠে আসে, তা একজন কঠোর কিন্তু স্নেহশীল, ন্যায়পরায়ণ এবং নীতিবান মানুষের প্রতিচ্ছবি। তাঁদের বর্ণনায় তিনি সন্তানদের শিখিয়েছিলেন—সত্যের সঙ্গে কখনো আপস করা যাবে না, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা যাবে না এবং মানুষের আস্থা অর্জনই একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

একজন সাংবাদিকের চেয়ে অনেক বেশি

শেখ হাবিবুর রহমানকে শুধু একজন সংবাদদাতা হিসেবে মূল্যায়ন করলে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না।

তিনি একই সঙ্গে—

  • ভাষা আন্দোলনের কর্মী,
  • সরকারি চাকরি ছেড়ে নীতির পক্ষে দাঁড়ানো একজন নাগরিক,
  • আইনজীবী,
  • দৈনিক আজাদ-এর সাংবাদিক,
  • ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি,
  • মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক,
  • এবং পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নিহত একজন শহীদ বুদ্ধিজীবী।

এই বহুমাত্রিক পরিচয় তাঁকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি অনন্য স্থানে অধিষ্ঠিত করেছে।

ঐতিহাসিক মূল্যায়ন

শেখ হাবিবুর রহমানের জীবন বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠন, ভাষা আন্দোলন, সাংবাদিকতা এবং মুক্তিযুদ্ধ—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ধারার একটি অনন্য সংযোগস্থল। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞ সৈনিক ছিলেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর সরকারি দায়িত্ব পালন করলেও রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিয়ে কারাবরণ করেন। পরে সরকারি চাকরি ছেড়ে আইন পেশা ও সাংবাদিকতাকে বেছে নেন। প্রায় দুই দশক দৈনিক আজাদ-এর প্রতিনিধি হিসেবে ঝিনাইদহ অঞ্চলের মানুষের কণ্ঠস্বর জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরেন।

১৯৭১ সালে তিনি কেবল একজন সংবাদকর্মী ছিলেন না; ছিলেন মুক্তিকামী জনগণের একজন সাহসী প্রতিনিধি। পাকিস্তানি বাহিনীর দখলদারিত্ব, হত্যা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং নির্মম হত্যার শিকার হন।

তাঁর জীবন প্রমাণ করে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা শুধু একটি সাংবিধানিক অধিকার নয়; এটি অনেক সময় ব্যক্তিগত সাহস, নৈতিক দৃঢ়তা এবং আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই প্রতিষ্ঠিত হয়। শেখ হাবিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীন সাংবাদিকতার ইতিহাসে এমন একজন পথিকৃৎ, যাঁর অবদান নতুন করে গবেষণা, সংরক্ষণ এবং জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র

১. শেখ মিজানুর রহমান, “আমার বাবা” — পারিবারিক স্মৃতিচারণ (বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত “স্মৃতি:১৯৭১)।

২. শেখ মিজানুর রহমানের সাক্ষাৎকার, দৈনিক প্রথম আলো (৮ জানুয়ারি ২০১৪)।

৩. দৈনিক প্রথম আলো, “প্রতিবাদী সাংবাদিক শেখ হাবিবুর রহমান”, জানা-অজানা বুদ্ধিজীবী ধারাবাহিক।

৪. মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন ও ঝিনাইদহের স্থানীয় ইতিহাসবিষয়ক প্রকাশিত গ্রন্থ ও গবেষণা।

৫. FoEBD Research & Documentation Archive.

সম্পাদকীয় নোট: এই প্রতিবেদনটি বর্তমানে প্রাপ্ত প্রাথমিক দলিল, পারিবারিক স্মৃতিচারণ, সংবাদপত্রের প্রতিবেদন এবং গবেষণাভিত্তিক প্রকাশনার আলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে। শেখ হাবিবুর রহমানের জীবন ও আত্মত্যাগ সম্পর্কে আরও দলিল, আলোকচিত্র, সংবাদপ্রতিবেদন অথবা প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য পাওয়া গেলে FoEBD যাচাই-বাছাই শেষে এই নিবন্ধ হালনাগাদ করবে। FoEBD বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সাংবাদিকতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ইতিহাস সংরক্ষণে এমন প্রতিটি নথি ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

সর্বশেষ তথ্য হালনাগাদ: তারিখ: ১৬ আগস্ট ২০২৬

 

তথ্য প্রদানে যোগাযোগ করুন: 

শহীদ সাংবাদিক শেখ হাবিবুর রহমান সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য, ছবি, ব্যক্তিগত দলিল, সংবাদপত্রের কাটিং, স্মৃতিচারণ অথবা সংশোধনী থাকলে যোগাযোগ করুন—

📧 ই-মেইল: info@foebd.org

📱 মোবাইল/হোয়াটসঅ্যাপ: +৮৮০৩৪১১১০২৮২

 


সাগর–রুনি হত্যা: তদন্তে আরও ছয় মাস
বিচারহীনতা ও জবাবদিহি

সাগর–রুনি হত্যা: তদন্তে আরও ছয় মাস

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার

বিস্তারিত »
সাংবাদিক এস এম মুন্না মিয়া আর নেই
অকাল প্রয়াণ

সাংবাদিক এস এম মুন্না মিয়া আর নেই

দৈনিক মানবকণ্ঠের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক ও সংস্কৃতি-বিষয়ক সাংবাদিক এস এম মুন্না মিয়া (স্বপন) মারা গেছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ক্লিনিকে

বিস্তারিত »
পাবনার সাংবাদিকতায় স্মরণীয় নাম আব্দুল জব্বার
স্মৃতিচারণ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি

পাবনার সাংবাদিকতায় স্মরণীয় নাম আব্দুল জব্বার

সাংবাদিকতা, কলাম লেখা ও বই প্রকাশের মধ্য দিয়ে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল জব্বার। সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি সমসাময়িক রাজনীতি ও সমাজের নানা

বিস্তারিত »
রথো রাফি: সাংবাদিকতা, কবিতা ও অনুবাদে স্বতন্ত্র এক কণ্ঠ
স্মৃতিচারণ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি

রথো রাফি: সাংবাদিকতা, কবিতা ও অনুবাদে স্বতন্ত্র এক কণ্ঠ

কবি, অনুবাদক ও সাংবাদিক রথো রাফি বাংলা কবিতায় নিজস্ব কণ্ঠ তৈরি করেছিলেন। কবিতার পাশাপাশি বিশ্বকবিতার অনুবাদ এবং সাংবাদিকতায়ও রেখেছেন অবদান। দীর্ঘ দুই দশকের কবিতাচর্চা, ছোটকাগজের

বিস্তারিত »
সাংবাদিকতা ও জনজীবনে শফিকুর রহমানের অবদান
স্মৃতিচারণ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি

সাংবাদিকতা ও জনজীবনে শফিকুর রহমানের অবদান

বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও জনজীবনে মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের দীর্ঘ কর্মজীবন বিস্তৃত ছিল। তিনি দৈনিক ইত্তেফাকে সাংবাদিকতা করেছেন। লিখেছেন রাজনৈতিক কলাম। দায়িত্ব পালন করেছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি

বিস্তারিত »
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনিতে মৃত্যু, মামলা
শহীদ ও নিহত

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনিতে মৃত্যু, মামলা

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। ১৫ অক্টোবর রাতে তাঁর বড় ভাই জলিল সানা বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ১০

বিস্তারিত »