October 29, 2026 3:21 pm
October 29, 2026 3:21 pm

আব্দুল কুদ্দুস: চার দশকের সাংবাদিকতার অবসান

আব্দুল কুদ্দুস: চার দশকের সাংবাদিকতার অবসান

Abdul Quddus: The End of a Four-Decade Journalism Journey

সিরাজগঞ্জের প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুস আর নেই। ২৫ সেপ্টেম্বর ভোরে নিজ বাসায় তিনি মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। এর আগে ১৭ আগস্ট হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে তাঁকে বাসায় নেওয়া হয়। মৃত্যুর আগে তিনি এক মাসের বেশি সময় শয্যাশায়ী ছিলেন।

আব্দুল কুদ্দুসের সাংবাদিকতা জীবনের বড় অংশ জুড়ে ছিল দৈনিক সংবাদ। পত্রিকাটির নিজস্ব প্রতিবেদনে তাঁকে সিরাজগঞ্জ জেলা বার্তা পরিবেশক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আমৃত্যু পত্রিকাটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। চার দশকেরও বেশি সময় তিনি সিরাজগঞ্জের খবর পাঠিয়েছেন জাতীয় সংবাদমাধ্যমে।

দীর্ঘ সাংবাদিকতার পথ

আব্দুল কুদ্দুস ১৯৮২ সাল থেকে দৈনিক সংবাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে পত্রিকাটির নিজস্ব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে সিরাজগঞ্জের নানা ঘটনা জাতীয় সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরেছেন তিনি।

পুরোনো সংবাদ নথিতেও তাঁকে দৈনিক সংবাদের সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে পাওয়া যায়। একটি সরকারি আর্কাইভে সংরক্ষিত সংবাদে সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের একটি মতবিনিময় সভায় তাঁর অংশগ্রহণের তথ্য রয়েছে। সেখানে তাঁকে দৈনিক সংবাদের জেলা প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় করানো হয়েছে।

দীর্ঘ এই সময়ের মধ্যে তাঁর সাংবাদিকতার বিষয় ছিল শুধু রাজনীতি বা প্রশাসন নয়। স্থানীয় প্রকৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মানুষের জীবন নিয়েও তিনি কথা বলেছেন।

চলনবিল নিয়ে ইত্তেফাক-এর একটি প্রতিবেদনে আব্দুল কুদ্দুসের বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে তিনি চলনবিলকে প্রকৃতির এক দুর্লভ রূপ হিসেবে বর্ণনা করেন। বর্ষায় বিশাল জলরাশি পর্যটকদের আকর্ষণ করে বলেও উল্লেখ করেন। তিনি চলনবিলের প্রাচীন স্থাপত্য ও লোককথার কথাও বলেন।

এই বক্তব্য তাঁর সাংবাদিকতার আরেকটি দিক সামনে আনে। স্থানীয় প্রকৃতি ও ঐতিহ্য তাঁর আগ্রহের বিষয় ছিল। চলনবিলের পরিবর্তন নিয়েও তিনি কথা বলেছেন। এ ধরনের বিষয় স্থানীয় সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ স্থানীয় সাংবাদিকের কাজ শুধু ঘটনা জানানো নয়। একটি অঞ্চলের ইতিহাস, প্রকৃতি ও মানুষের জীবনও নথিবদ্ধ করা।

সাংবাদিকদের পাশে

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত অধিকার নিয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। ২০২২ সালে সিরাজগঞ্জের সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা ডিবিসির জ্যেষ্ঠ প্রযোজক আব্দুল বারি হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন। সেখানে বক্তব্য দেন সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুস।

২০২৫ সালে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার প্রতিবাদেও সিরাজগঞ্জে কর্মসূচি হয়। সেখানে আব্দুল কুদ্দুস বক্তব্য দেন। একই কর্মসূচিতে সাগর-রুনিসহ সাংবাদিক হত্যার বিচার দাবি করা হয়। বরবরই তিনি সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য আইন প্রণয়নের দাবি তুলেছেন।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি আব্দুল কুদ্দুস সিরাজগঞ্জের সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গেও দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের বিভিন্ন সময়ে নেতৃত্বে ছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক ছিলেন। বিভিন্ন কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানে তিনি সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এতে তাঁর সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের একটি দিক স্পষ্ট হয়।

সহকর্মীদের স্মৃতিতে তাঁর একটি মানবিক পরিচয়ও পাওয়া যায়। সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলে খোদা লিটন তাঁর স্মৃতিচারণে আব্দুল কুদ্দুসকে বিনয়ী, সদালাপী ও নিষ্ঠাবান সাংবাদিক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে আব্দুল কুদ্দুস সততা, দায়বদ্ধতা ও পেশাদারত্বের পরিচয় দিয়েছেন।

আব্দুল কুদ্দুস এমন এক সময়ে সাংবাদিকতায় এসেছিলেন, যখন স্থানীয় সংবাদ সংগ্রহ ও জাতীয় পত্রিকায় পাঠানোর পদ্ধতি ছিল আজকের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সিরাজগঞ্জের ঘটনাকে জাতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত রেখেছেন। স্থানীয় সাংবাদিকতার সেই দীর্ঘ ধারার তিনি একজন সাক্ষী ও অংশীজন ছিলেন। তাঁর সাংবাদিকতার সময়কালেই প্রযুক্তি বদলেছে। সংবাদ সংগ্রহের পদ্ধতি বদলেছে। সংবাদমাধ্যমের ধরন বদলেছে। কিন্তু তিনি দৈনিক সংবাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আমৃত্যু।

আব্দুল কুদ্দুসের উত্তরাধিকার শুধু তাঁর চাকরির দীর্ঘতায় নয়। সিরাজগঞ্জের সাংবাদিক সংগঠনে তাঁর ভূমিকা ছিল। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। স্থানীয় প্রকৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে কথা বলেছেন। সহকর্মীদের স্মৃতিতে তিনি ছিলেন বিনয়ী ও সদালাপী একজন সাংবাদিক।

চার দশকের বেশি সময় ধরে একটি জাতীয় দৈনিকের হয়ে একটি জেলার খবর তুলে ধরা সহজ কাজ নয়। সেই দীর্ঘ সময়ের সংবাদকর্মের মধ্য দিয়েই আব্দুল কুদ্দুস সিরাজগঞ্জের সাংবাদিকতার ইতিহাসের একটি অংশ হয়ে আছেন।

তাঁর মৃত্যুতে সেই দীর্ঘ অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হলো।

তথ্যসূত্র


সাগর–রুনি হত্যা: তদন্তে আরও ছয় মাস
বিচারহীনতা ও জবাবদিহি

সাগর–রুনি হত্যা: তদন্তে আরও ছয় মাস

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার

বিস্তারিত »
সাংবাদিক এস এম মুন্না মিয়া আর নেই
অকাল প্রয়াণ

সাংবাদিক এস এম মুন্না মিয়া আর নেই

দৈনিক মানবকণ্ঠের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক ও সংস্কৃতি-বিষয়ক সাংবাদিক এস এম মুন্না মিয়া (স্বপন) মারা গেছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ক্লিনিকে

বিস্তারিত »
পাবনার সাংবাদিকতায় স্মরণীয় নাম আব্দুল জব্বার
স্মৃতিচারণ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি

পাবনার সাংবাদিকতায় স্মরণীয় নাম আব্দুল জব্বার

সাংবাদিকতা, কলাম লেখা ও বই প্রকাশের মধ্য দিয়ে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল জব্বার। সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি সমসাময়িক রাজনীতি ও সমাজের নানা

বিস্তারিত »
রথো রাফি: সাংবাদিকতা, কবিতা ও অনুবাদে স্বতন্ত্র এক কণ্ঠ
স্মৃতিচারণ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি

রথো রাফি: সাংবাদিকতা, কবিতা ও অনুবাদে স্বতন্ত্র এক কণ্ঠ

কবি, অনুবাদক ও সাংবাদিক রথো রাফি বাংলা কবিতায় নিজস্ব কণ্ঠ তৈরি করেছিলেন। কবিতার পাশাপাশি বিশ্বকবিতার অনুবাদ এবং সাংবাদিকতায়ও রেখেছেন অবদান। দীর্ঘ দুই দশকের কবিতাচর্চা, ছোটকাগজের

বিস্তারিত »
সাংবাদিকতা ও জনজীবনে শফিকুর রহমানের অবদান
স্মৃতিচারণ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি

সাংবাদিকতা ও জনজীবনে শফিকুর রহমানের অবদান

বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও জনজীবনে মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের দীর্ঘ কর্মজীবন বিস্তৃত ছিল। তিনি দৈনিক ইত্তেফাকে সাংবাদিকতা করেছেন। লিখেছেন রাজনৈতিক কলাম। দায়িত্ব পালন করেছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি

বিস্তারিত »
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনিতে মৃত্যু, মামলা
শহীদ ও নিহত

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনিতে মৃত্যু, মামলা

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। ১৫ অক্টোবর রাতে তাঁর বড় ভাই জলিল সানা বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ১০

বিস্তারিত »