বরিশালে দৈনিক সমকালের ব্যুরো কার্যালয় থেকে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নগরের প্যারারা রোডে সমকালের বরিশাল ব্যুরো কার্যালয় থেকে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি হাতে লেখা চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলক চ্যাটার্জির বয়স ছিল ৫৭ বছর। তিনি দৈনিক সমকালের বরিশালের সাবেক ব্যুরো প্রধান এবং বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত তিনি সমকালে কর্মরত ছিলেন।
পাঁচটি চিরকুট
পুলিশের বরাতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলক চ্যাটার্জি তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে, ছোট ভাই দীপক চ্যাটার্জি, বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন এবং সমকালের বরিশাল ব্যুরোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুমন চৌধুরীর উদ্দেশে পৃথক চিরকুট লিখেছিলেন।
চিরকুটগুলোর একটিতে নিজের শারীরিক অসুস্থতা ও ভারতে চিকিৎসা নেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। মেয়ের উদ্দেশে লেখা চিরকুটে পড়াশোনা ও গান শেখা চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সমকালের সহকর্মী সুমন চৌধুরীর উদ্দেশে লেখা চিরকুটে পুলক চ্যাটার্জি সমকালের কাছে তাঁর পাওনা অর্থ আদায় করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তবে এসব চিরকুটের বিষয়বস্তু ও মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্তের বিষয়টি এখনো গুরুত্বপূর্ণ। তাই চিরকুটে উল্লেখ করা কোনো বিষয়কে মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
চাকরি হারানোর তিন বছরের বেশি সময় পর পাওনার হিসাব চূড়ান্ত
পুলক চ্যাটার্জি ২০২৩ সালের মে মাসে সমকাল থেকে চাকরিচ্যুত হন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর তাঁর চাকরিসংক্রান্ত পাওনার হিসাব নিয়ে সমকালের সঙ্গে আলোচনা চলছিল।
সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পুলক চ্যাটার্জির পাওনার হিসাব চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে পত্রিকাটির বিজ্ঞাপন ও আইটি বিভাগের অনাপত্তির প্রয়োজন ছিল। এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনা চলে।
সমকালের মানবসম্পদ বিভাগের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে বিজ্ঞাপন ও আইটি বিভাগ অনাপত্তিপত্র হিসাব বিভাগে জমা দেয় এবং এরপর তাঁর পাওনার হিসাব চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এগোয়। অর্থাৎ ২০২৩ সালের মে মাসে চাকরি হারানোর প্রায় তিন বছর তিন মাস পর পাওনার হিসাব চূড়ান্ত করার পর্যায়ে যায়।
তবে সমকালের এই বক্তব্যে পাওনার অর্থ তাঁকে বা তাঁর পরিবারকে ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।
মৃত্যুর বিষয়ে পুলিশের তদন্ত
শুক্রবার রাতে বরিশাল মহানগর পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে চিরকুট পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সিআইডির সদস্যরাও ঘটনাস্থলে কাজ করেছেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ।
ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর
স্থানীয় পত্রিকা আজকের পরিবর্তন-এর স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট স্বপন খন্দকারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলক চ্যাটার্জির ময়নাতদন্তের সব কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি আরও জানান, সন্ধ্যায় তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুতে বরিশালের সাংবাদিক মহলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্যসূত্র
দৈনিক সমকাল, দ্যা ডেইলি স্টার, এনটিভি, দেশ রূপান্তর, ঢাকা ট্রিবিউনসহ প্রকাশিত সংবাদ এবং স্থানীয় সাংবাদিক স্বপন খন্দকারের দেওয়া তথ্য।





