কুমিল্লার চান্দিনার সাংবাদিক মুন্সী কামাল আতাতুর্ক মিসেলের সাংবাদিকতা জীবন শুরু হয়েছিল ২০০০ সালে। দৈনিক ভোরের ডাকের মাধ্যমে পেশায় আসার পর ২০০৩ সালে তিনি দৈনিক ইনকিলাবে যুক্ত হন। দীর্ঘ সময়ে তিনি চান্দিনা প্রতিনিধি, জেলা স্টাফ রিপোর্টার এবং পরে ভ্রাম্যমাণ সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি এবং স্থানীয় দৈনিক রূপসী বাংলায়ও কাজ করেছেন।
তাঁর সাংবাদিকতার বড় বৈশিষ্ট্য ছিল মাঠে ঘুরে মানুষের সমস্যা ও জনস্বার্থের বিষয় তুলে ধরা। ইনকিলাবের আর্কাইভে তাঁর নামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মহাসড়কের অনিয়ম, অবৈধ যানবাহন, যানজট, চাঁদাবাজি, সড়কের দুরবস্থা, পরিবেশ ও জনদুর্ভোগের মতো বিষয় বারবার উঠে এসেছে।
বাসসের প্রতিবেদনগুলোতেও তাঁর কাজের বিষয়বৈচিত্র্য দেখা যায়। কুমিল্লার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, সংস্কৃতি, স্থানীয় জনজীবন এবং বিভিন্ন জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে তিনি রিপোর্ট করেছেন। ময়নামতি-লালমাইয়ের প্রত্নসম্পদ নিয়ে তাঁর একটি প্রতিবেদন আলোচিত হয়।
চান্দিনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাংবাদিক সংগঠনে নেতৃত্বের পাশাপাশি তৃণমূলের মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরতে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।
তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের একটি বিষয় স্পষ্ট—চান্দিনা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে তিনি মাঠের সংবাদ সংগ্রহ করেছেন। দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন তাঁকে স্মরণ করে বলেছেন, তিনি দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে ঘুরে অনিয়ম, মানুষের দুঃখ-কষ্ট এবং সংবাদের পেছনের সত্য তুলে ধরেছেন।
মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। ২০২৬ সালের আগস্টে তাঁর নামে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাস চলাচল ও সড়ক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অর্থাৎ জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত মাঠসাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত সমস্যায় মুন্সী কামাল আতাতুর্ক মিসেলকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছিল। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে ঢাকার ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ওই দিন বাদ আসর দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তাঁর জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
তথ্যসূত্র:
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) — মৃত্যুসংবাদ
দৈনিক ইনকিলাব — শোকবার্তা
দৈনিক ইনকিলাব — দাফনের সংবাদ
দৈনিক রূপসী বাংলা — সাংবাদিকতা জীবন ও জানাজা





