বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বহু সাংবাদিকের আত্মত্যাগ আজও পুরোপুরি নথিভুক্ত হয়নি। কেউ সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন, কেউ স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, আবার কেউ সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে আর কখনো ফিরে আসেননি। তাঁদের অনেকের জীবন ও মৃত্যুর বিবরণ আজও অসম্পূর্ণ, বিচ্ছিন্ন স্মৃতিচারণ এবং অল্প কিছু নথির মধ্যে সীমাবদ্ধ।
শহীদ সাংবাদিক আবুল বাশার চৌধুরী তাঁদেরই একজন।
তিনি ছিলেন ইংরেজি দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর একজন প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ সাংবাদিক। কিন্তু তাঁর পরিচয় কেবল সংবাদকর্মীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্র থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ধীরে ধীরে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যুক্ত হন। সংবাদ সংগ্রহের পাশাপাশি তিনি গোপন যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান এবং পরে সরাসরি গেরিলা কর্মকাণ্ডেও অংশ নেন।
মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে তাঁর জীবন এক রহস্যময় মোড় নেয়। তাঁর অন্তর্ধান সম্পর্কে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। একটি সূত্রে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের অক্টোবরে তাঁকে ঢাকার মগবাজারের বাসা থেকে পাকিস্তানি বাহিনী তুলে নিয়ে যায়। অন্য একটি সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মগবাজারে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ঘাঁটিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অভিযানের সময় তিনি আহত অবস্থায় আটক হন। উভয় ক্ষেত্রেই একটি বিষয় নিশ্চিত—এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি।
আবুল বাশার চৌধুরীর জীবনের এই অসমাপ্ত অধ্যায় শুধু একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়; এটি বাংলাদেশের সাংবাদিকতা, মুক্তিযুদ্ধ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
FoEBD মনে করে, শহীদ সাংবাদিকদের জীবন নিয়ে কাজ করার উদ্দেশ্য শুধু অতীত স্মরণ করা নয়; বরং এমন একটি নির্ভরযোগ্য আর্কাইভ গড়ে তোলা, যেখানে প্রাপ্ত প্রতিটি তথ্য, স্মৃতিচারণ এবং দলিল যথাযথভাবে সংরক্ষিত থাকবে। আবুল বাশার চৌধুরীর জীবন সেই বৃহত্তর প্রচেষ্টারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শৈশব ও শিক্ষাজীবন
আবুল বাশার চৌধুরীর জন্ম টাঙ্গাইল জেলায়। তাঁর বাবা আব্দুল গনি চৌধুরী ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা। বাবার চাকরির কারণে শৈশবের একটি বড় অংশ তিনি তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের করাচি শহরে কাটান। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে পাকিস্তানের দুই অংশের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ করে দেয়।
ছোটবেলা থেকেই তাঁর মধ্যে সাংবাদিকতার প্রতি গভীর আকর্ষণ ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য লাহোরে যান এবং সাংবাদিকতা বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীকালে তিনি ঢাকায় ফিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর (এমএ) ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
তাঁর পরিবারের একটি স্মৃতিচারণে উল্লেখ আছে, আব্দুল গনি চৌধুরী একবার বলেছিলেন—
“আমি কখনই আমার ছেলের কাছ থেকে টাকা-পয়সা চাইনি; শুধু চেয়েছি সে যেন একজন সৎ সাংবাদিক হয়।”
এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, পরিবারে সততা, দায়িত্ববোধ এবং পেশাগত নৈতিকতার মূল্যবোধ কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পরবর্তী জীবনে আবুল বাশারের সাংবাদিকতা এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণেও সেই মূল্যবোধের প্রতিফলন দেখা যায়।
সাংবাদিকতা জীবনের শুরু
১৯৬৮ সালে আবুল বাশার চৌধুরী ইংরেজি দৈনিক মর্নিং নিউজ-এ রিপোর্টার হিসেবে যোগ দেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সহকর্মীদের আস্থা অর্জন করেন। তাঁর প্রাণবন্ত স্বভাব, অনুসন্ধিৎসু মনোভাব এবং কর্মনিষ্ঠা তাঁকে সংবাদকক্ষে একটি আলাদা পরিচিতি এনে দেয়।
খ্যাতনামা সাংবাদিক গোলাম তাহাবুর, যিনি তাঁর সহকর্মী ছিলেন, স্মৃতিচারণে আবুল বাশারের যে প্রতিচ্ছবি এঁকেছেন, তা একজন উদ্যমী তরুণ সাংবাদিকের।
তিনি লিখেছেন, নতুন রিপোর্টার হিসেবে আবুল বাশার যোগ দেওয়ার পর খুব দ্রুত তাঁদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। কালো ফ্রেমের চশমা, পরিচ্ছন্ন পোশাক, বুদ্ধিদীপ্ত ব্যক্তিত্ব এবং সর্বদা হাসিখুশি আচরণের কারণে তিনি সহজেই সবার প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে দুই তরুণ সাংবাদিক মোটরসাইকেলে চড়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ছুটে বেড়াতেন সংবাদ সংগ্রহের জন্য। খবরের সন্ধানে তাঁদের এই নিরলস ছুটে চলা সহকর্মীদের এতটাই মুগ্ধ করেছিল যে, সবাই তাঁদের ডাকতেন “মানিকজোড়” নামে।
উনসত্তরের গণআন্দোলন শুধু তাঁদের সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতাই সমৃদ্ধ করেনি; একই সঙ্গে বাঙালির রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কও গভীর করে তোলে। এই সময়ের অভিজ্ঞতাই সম্ভবত আবুল বাশারকে পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার মানসিক প্রস্তুতি দেয়।
সাংবাদিকতা থেকে মুক্তিযুদ্ধের পথে
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে আমূল পরিবর্তন করে দেয়। সংবাদকর্মী হিসেবে আবুল বাশার চৌধুরী খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেন বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের উত্থান, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন এবং জনগণের ক্রমবর্ধমান স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা।
সেই সময় সংবাদ সংগ্রহ ছিল শুধু একটি পেশাগত দায়িত্ব নয়; এটি ছিল ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার একটি সুযোগ। ঢাকার রাজপথ, রাজনৈতিক সমাবেশ, ছাত্র আন্দোলন এবং প্রশাসনিক অস্থিরতার খবর সংগ্রহ করতে তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে দিনের পর দিন শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াতেন।
তাঁর সহকর্মী গোলাম তাহাবুর স্মৃতিচারণে লিখেছেন, সংবাদ সংগ্রহের কাজে তাঁদের প্রায় প্রতিদিন মোটরসাইকেলে করে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে যেতে হতো। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, যা সহকর্মীদের কাছে “মানিকজোড়” নামে পরিচিত ছিল।
এই অভিজ্ঞতা আবুল বাশারের রাজনৈতিক সচেতনতা ও দায়িত্ববোধকে আরও দৃঢ় করে তোলে। একজন সাংবাদিক হিসেবে তিনি শুধু ঘটনাকে দেখছিলেন না; তিনি বুঝতে শুরু করেছিলেন, দেশ একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
১৯৭১: যখন সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হলো মুক্তিযুদ্ধ
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী গণহত্যা শুরু করলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কার্যত বিলুপ্ত হয়ে যায়। সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য আদান-প্রদান এবং সত্য প্রকাশ—সবকিছুই হয়ে ওঠে জীবনসংকটের বিষয়।
এই পরিস্থিতিতে আবুল বাশার সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, তিনি ধীরে ধীরে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গেও সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন।
গোলাম তাহাবুর তাঁর স্মৃতিচারণে উল্লেখ করেছেন, যুদ্ধের সময় তিনি লক্ষ্য করতেন—বাশার অফিসের কাজের বাইরেও অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থাকতেন। মাঝে-মধ্যে তিনি সহকর্মীকে জানাতেন, শহরের কোন এলাকায় কখন মুক্তিবাহিনীর অভিযান হতে পারে। এসব তথ্য থেকে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় যে, মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল।
বাংলা একাডেমির এই স্মৃতিচারণে তাঁর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যদিও কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ সেখানে নেই।
মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার
বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) প্রকাশিত তথ্য আবুল বাশারের ভূমিকা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ধারণা দেয়।
সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন এবং গেরিলা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। শুধু সংবাদ সংগ্রহ নয়, তিনি অস্ত্র হাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধেও অংশ নেন।
পিআইবির বর্ণনা অনুযায়ী, ঢাকার মগবাজারে তাঁর বন্ধু আজাদের বাসাকে কেন্দ্র করে একটি গেরিলা নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। এই বাড়িটি মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়, যোগাযোগ এবং বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হতো। আবুল বাশার এই কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করতেন।
এই তথ্যগুলো আবুল বাশারের পরিচয়কে নতুন মাত্রা দেয়। তিনি শুধু যুদ্ধকালীন একজন সাংবাদিক ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন সাংবাদিক-মুক্তিযোদ্ধা—যিনি একই সঙ্গে কলম এবং অস্ত্র—উভয় মাধ্যমেই স্বাধীনতার সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন।
সহকর্মীদের চোখে একজন প্রাণবন্ত মানুষ
যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেও আবুল বাশারের ব্যক্তিত্বের একটি দিক সহকর্মীদের স্মৃতিতে অম্লান হয়ে আছে। গোলাম তাহাবুর তাঁকে বর্ণনা করেছেন একজন হাসিখুশি, প্রাণচঞ্চল এবং উদার মানুষ হিসেবে। সংবাদ সংগ্রহের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি সহকর্মীদের খাওয়াতেন, নতুন মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেতেন এবং কঠিন পরিস্থিতিকেও সহজভাবে নেওয়ার চেষ্টা করতেন।
এই মানবিক গুণাবলি তাঁকে শুধু দক্ষ সাংবাদিক নয়, একজন প্রিয় সহকর্মী হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
কিন্তু যুদ্ধ যতই দীর্ঘায়িত হতে থাকে, তাঁর আচরণে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। সহকর্মীরা লক্ষ্য করেন, তিনি আগের তুলনায় বেশি চিন্তিত এবং ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। পরে বোঝা যায়, সেই ব্যস্ততার বড় একটি অংশ ছিল মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে।
সাংবাদিকতা ও দেশপ্রেমের এক অনন্য সমন্বয়
আবুল বাশার চৌধুরীর জীবন আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরে—একজন সাংবাদিক কি শুধু পর্যবেক্ষক, নাকি কোনো জাতির অস্তিত্বের সংকটে তিনি নাগরিক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন?
১৯৭১ সালের বাস্তবতায় এই দুই পরিচয়কে আলাদা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
আবুল বাশার সংবাদ সংগ্রহ করেছেন, সত্য নথিভুক্ত করেছেন, আবার একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবনও ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন।
তাঁর জীবন প্রমাণ করে, মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের অনেক সাংবাদিক কেবল ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেননি; তাঁরা নিজেরাই ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠেছিলেন।
মগবাজার: সাংবাদিকের বাসা থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়কেন্দ্র
১৯৭১ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা অভিযান ক্রমেই জোরদার হতে থাকে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট প্রতিরোধ দল গড়ে ওঠে। এসব দলের সদস্যরা গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করতেন এবং নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহার করতেন।
বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার মগবাজারে আবুল বাশার চৌধুরীর বন্ধু আজাদ–এর বাসা এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের যাতায়াত ছিল এবং বিভিন্ন গেরিলা অভিযানের পরিকল্পনা করা হতো। আবুল বাশার নিজেও এই কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি শুধু আশ্রয় দেওয়াই নয়, মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক সহযোগিতা এবং সমন্বয়ের কাজেও ভূমিকা রাখতেন।
এটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব। কারণ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং তাদের সহযোগী আলবদর-রাজাকার বাহিনী তখন রাজধানীতে মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজে বের করতে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছিল।
বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ
পিআইবি প্রকাশিত বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে মগবাজার এলাকায় মুক্তিবাহিনীর একটি সফল অভিযানের পর স্থানীয় কয়েকজন আলবদর সদস্য ওই গেরিলা ঘাঁটির তথ্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে জানিয়ে দেয়।
এই তথ্যের ভিত্তিতে পাকিস্তানি সেনারা মগবাজারের বাড়িটি ঘিরে ফেলে।
যদিও এই ঘটনার স্বাধীন সমসাময়িক নথি এখনো সীমিত, তবু একাধিক পরবর্তী সূত্রে একই ধরনের বর্ণনা পাওয়া যায়। ফলে ঘটনাটি ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে নথিভুক্ত করা হলেও, এর প্রতিটি উপাদান নিয়ে আরও গবেষণার সুযোগ রয়েছে।
পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযান
পিআইবির বিবরণ অনুযায়ী, একদিন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি দল হঠাৎ বাড়িটি ঘেরাও করে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে।
ঘরের ভেতরে অবস্থানরত আবুল বাশার, আজাদ এবং তাঁদের সহযোদ্ধারা আত্মসমর্পণ না করে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দুই পক্ষের মধ্যে কিছু সময় গোলাগুলি চলে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আবুল বাশারসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
এরপর আহত অবস্থায় তাঁদের আটক করে পাকিস্তানি সেনারা নিয়ে যায়। পিআইবির তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের সেকেন্ড ক্যাপিটাল এলাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি আটককেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল। এরপর তাঁদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
যদি এই বর্ণনা পুরোপুরি সঠিক হয়, তাহলে আবুল বাশারকে যুদ্ধবন্দি হিসেবে আটক করার পর গুম বা হত্যা করা হয়েছিল বলে ধারণা করা যায়। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা প্রত্যক্ষ নথি পাওয়া যায়নি।
আরেকটি বর্ণনা: অক্টোবরের সেই রাত
অন্যদিকে, বাংলা একাডেমি প্রকাশিত স্মৃতি: ১৯৭১ গ্রন্থে সাংবাদিক গোলাম তাহাবুর একটি ভিন্ন বিবরণ দিয়েছেন। তাঁর স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের অক্টোবরের এক রাতে আবুল বাশারকে ঢাকার মগবাজারের বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় পাকিস্তানি বাহিনী। পরদিন থেকে শুরু হয় উদ্বিগ্ন পরিবারের অপেক্ষা। তিনি আরও লিখেছেন, আবুল বাশারের বাবা-মা প্রায় প্রতিদিন টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করতেন। সারাদিন ছেলের খোঁজখবর নিয়ে সন্ধ্যায় হতাশ হয়ে ফিরে যেতেন।
মর্নিং নিউজ কর্তৃপক্ষও বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁর সন্ধান করার চেষ্টা করে। এমনকি পাকিস্তানি সামরিক প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রাও ফরমান আলী–এর কাছেও খোঁজ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোথাও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গোলাম তাহাবুরের স্মৃতিচারণে একটি হৃদয়স্পর্শী বর্ণনা পাওয়া যায়—
“বাশারের আব্বা ও আম্মা রোজ সকালে টাঙ্গাইল থেকে আসতেন আমার বাসায় এবং সারা দিন পর হতাশ মনে ফিরে যেতেন।”
এই সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণ শুধু একটি পরিবারের অসহায়তার কথাই বলে না; এটি ১৯৭১ সালে অসংখ্য নিখোঁজ মানুষের পরিবারের ভাগ্যকেও প্রতিফলিত করে।
দুই বর্ণনা, এক ট্র্যাজেডি
আবুল বাশার চৌধুরীর অন্তর্ধান সম্পর্কে বর্তমানে যে তথ্য পাওয়া যায়, তা মূলত দুটি নির্ভরযোগ্য কিন্তু আংশিক ভিন্ন উৎসের ওপর ভিত্তি করে।
বাংলা একাডেমির স্মৃতিচারণে বলা হয়েছে, তাঁকে অক্টোবর মাসে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যদিকে পিআইবির প্রকাশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, মগবাজারে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটিতে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানের সময় আহত অবস্থায় তিনি আটক হন। উভয় বর্ণনার মধ্যে সময় ও ঘটনার পার্থক্য থাকলেও একটি বিষয়ে উভয় সূত্রই একমত— আবুল বাশার চৌধুরী পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর আর কখনো ফিরে আসেননি।
FoEBD এই দুই বর্ণনাকেই ইতিহাসের অংশ হিসেবে নথিভুক্ত করছে। ভবিষ্যতে নতুন দলিল, সরকারি নথি, পারিবারিক সাক্ষ্য বা গবেষণালব্ধ তথ্য পাওয়া গেলে এই অংশ প্রয়োজন অনুযায়ী হালনাগাদ করা হবে।
সহকর্মীদের স্মৃতিতে আবুল বাশার চৌধুরী
কোনো মানুষের প্রকৃত পরিচয় শুধু তাঁর কর্মজীবনের তথ্য দিয়ে বোঝা যায় না; সমসাময়িকদের স্মৃতিতেও তাঁর ব্যক্তিত্বের অনেক দিক সংরক্ষিত থাকে। আবুল বাশার চৌধুরীর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। তাঁর সহকর্মী ও বিশিষ্ট সাংবাদিক গোলাম তাহাবুর স্মৃতিচারণে তাঁকে একজন প্রাণবন্ত, উদার এবং কর্মনিষ্ঠ তরুণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
তিনি লিখেছেন, নতুন রিপোর্টার হিসেবে মর্নিং নিউজ-এ যোগ দেওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও তাঁরা একে অপরের অত্যন্ত কাছের মানুষ হয়ে ওঠেন। তাঁর ভাষায়, আবুল বাশার ছিলেন সর্বদা হাসিখুশি। তাঁর মুখে প্রায় সবসময়ই হাসি লেগে থাকত। কালো ফ্রেমের চশমা, পরিপাটি পোশাক এবং আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি তাঁকে সহজেই সবার নজরে আনত। সংবাদ সংগ্রহের ব্যস্ত দিনের মধ্যেও তিনি সহকর্মীদের খোঁজ রাখতেন। কখনো জোর করে খাওয়াতে নিয়ে যেতেন, কখনো নিজের নতুন মোটরসাইকেলে করে খবর সংগ্রহে বেরিয়ে পড়তেন। তাদের ঘনিষ্ঠতা এত গভীর ছিলো যে অন্য সহকর্মীরা তাঁদের দুজনকে ডাকতেন—”মানিকজোড়”।
একজন সাংবাদিকের নৈতিক অবস্থান
আবুল বাশার চৌধুরীর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—তিনি কখনো সাংবাদিকতাকে কেবল একটি চাকরি হিসেবে দেখেননি। ষাটের দশকের শেষ ভাগে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতা, গণআন্দোলন এবং পরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংবাদ সংগ্রহ ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। তবুও তিনি দায়িত্ব পালন থেকে পিছিয়ে যাননি।
বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে একটি জাতির অস্তিত্বের সংকটের সময়ে নিরপেক্ষভাবে সত্য তুলে ধরা যেমন প্রয়োজন, তেমনি স্বাধীনতার প্রশ্নে একজন নাগরিকেরও নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। এই উপলব্ধিই তাঁকে সাংবাদিকতার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে অনুপ্রাণিত করেছিল বলে ধারণা করা যায়।
পরিবারের অসীম অপেক্ষা
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে নিখোঁজ মানুষের পরিবারের গল্পগুলো প্রায়ই আড়ালে থেকে যায়। আবুল বাশার চৌধুরীর পরিবারও সেই একই বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। গোলাম তাহাবুর স্মৃতিচারণে উল্লেখ করেছেন, আবুল বাশারের বাবা ও মা প্রায় প্রতিদিন টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় আসতেন। তাঁরা পরিচিতজনদের কাছে ছেলের খোঁজ করতেন। সেনানিবাসে যোগাযোগের চেষ্টা করতেন। যেখানে সামান্য সম্ভাবনার খবর পাওয়া যেত, সেখানেই ছুটে যেতেন। কিন্তু প্রতিদিনের শেষে তাঁদের ফিরতে হতো একই অনিশ্চয়তা নিয়ে। ছেলে জীবিত, না মৃত—কেউ বলতে পারত না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পরও তাঁদের সেই অপেক্ষার নিশ্চিত সমাপ্তি ঘটেনি।
এই ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি মুক্তিযুদ্ধে নিখোঁজ হওয়া অসংখ্য পরিবারের অভিজ্ঞতারই প্রতিচ্ছবি।
ইতিহাসে কেন গুরুত্বপূর্ণ আবুল বাশার চৌধুরী?
আবুল বাশার চৌধুরীর নাম বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, তিনি এমন এক প্রজন্মের প্রতিনিধি, যারা সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা নথিভুক্ত করছিলেন।
দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি শুধু সংবাদ সংগ্রহেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; মুক্তিযুদ্ধেও প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত হয়েছিলেন।
তৃতীয়ত, তাঁর অন্তর্ধান আজও পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি। ফলে তাঁর জীবন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি অসম্পূর্ণ কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল হয়ে আছে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ইতিহাসে তাঁর স্থান
আবুল বাশার চৌধুরীর আত্মত্যাগকে শুধু মুক্তিযুদ্ধের একটি ঘটনা হিসেবে দেখলে তাঁর অবদান পুরোপুরি মূল্যায়ন করা হবে না। তিনি ছিলেন এমন একজন সাংবাদিক, যিনি এমন এক সময়ে সত্য অনুসন্ধান করছিলেন, যখন সত্য প্রকাশ করাই ছিল জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সামরিক শাসন শুধু রাজনৈতিক বিরোধীদের নয়; সাংবাদিক, লেখক, শিক্ষক এবং বুদ্ধিজীবীদেরও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল। কারণ তারা জানত—যুদ্ধক্ষেত্রে একটি জাতিকে পরাজিত করা যত কঠিন, সত্যকে নীরব করে দেওয়া তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ।
আবুল বাশার চৌধুরী সেই সত্যের পক্ষেই দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি কলম হাতে সংবাদ সংগ্রহ করেছেন। প্রয়োজনে অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধেও অংশ নিয়েছেন। এই কারণেই তাঁর জীবন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং নাগরিক দায়িত্ববোধ—এই তিনটি মূল্যবোধের এক অনন্য সমন্বয়।
মূল্যায়ন
আবুল বাশার চৌধুরী বাংলাদেশের সেইসব সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্ব করেন, যাঁদের অবদান রাষ্ট্রীয় ইতিহাসে তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত হলেও স্বাধীনতার সংগ্রামে তাঁদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁর জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
- সাংবাদিকতা শুধু তথ্য সংগ্রহের পেশা নয়; এটি গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের একটি মৌলিক স্তম্ভ।
- স্বাধীনতার সংগ্রামে সাংবাদিকরাও সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিলেন।
- সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতা একটি ব্যক্তির ওপর হামলা নয়; এটি জনগণের জানার অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপরও আঘাত।
এই কারণেই আবুল বাশার চৌধুরীর জীবন ও অন্তর্ধান শুধু অতীতের একটি ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশের স্বাধীন গণমাধ্যমের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব
আবুল বাশার চৌধুরীর জীবন বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে কয়েকটি কারণে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এমন এক প্রজন্মের প্রতিনিধি, যারা স্বাধীনতার আন্দোলনের সময় সংবাদ সংগ্রহ করেছেন এবং একই সঙ্গে সেই আন্দোলনের অংশও হয়ে উঠেছেন। তাঁর জীবন দেখায়, ১৯৭১ সালে একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব কেবল সংবাদ প্রকাশে সীমাবদ্ধ ছিল না। সত্য নথিভুক্ত করা, জনগণকে তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং প্রয়োজনে দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে অংশ নেওয়া—সবকিছুই তখন একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত ছিল।
মুক্তিযুদ্ধের সময় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতার ইতিহাস এখনও পুরোপুরি নথিভুক্ত হয়নি। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আবুল বাশার চৌধুরীর জীবন বাংলাদেশের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস—এই তিনটি ক্ষেত্রেই একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয়।
নোট
আবুল বাশার চৌধুরীর জীবন ও অন্তর্ধান সম্পর্কে বর্তমানে যে তথ্য পাওয়া যায়, তার একটি অংশ স্মৃতিচারণভিত্তিক এবং একটি অংশ পরবর্তী গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রকাশনা থেকে সংগৃহীত। কিছু বিষয়ে বিভিন্ন উৎসে ভিন্ন বর্ণনা রয়েছে। FoEBD কোনো একটি বর্ণনাকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা না করে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহের তথ্য স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করেছে। নতুন সরকারি নথি, পারিবারিক দলিল, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য অথবা গবেষণালব্ধ তথ্য পাওয়া গেলে এই ডকুমেন্ট নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে।
সময়রেখা
| সাল/তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| টাঙ্গাইল | আবুল বাশার চৌধুরীর জন্ম। (সুনির্দিষ্ট জন্মতারিখ এখনো নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি।) |
| শৈশব | বাবার চাকরির কারণে করাচিতে বেড়ে ওঠা। |
| লাহোর | সাংবাদিকতা বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ। |
| ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | স্নাতকোত্তর (এমএ) ডিগ্রি অর্জন। |
| ১৯৬৮ | ইংরেজি দৈনিক মর্নিং নিউজ-এ সাংবাদিকতা জীবন শুরু। |
| ১৯৬৯ | গণঅভ্যুত্থানের সংবাদ সংগ্রহে সক্রিয় অংশগ্রহণ; সহকর্মীদের কাছে “মানিকজোড়” নামে পরিচিতি। |
| ১৯৭১ (মার্চ) | মুক্তিযুদ্ধ শুরু; সাংবাদিকতার পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা। |
| ১৯৭১ | বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী গেরিলা কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা। |
| ১৯৭১ (অক্টোবর/শেষ পর্যায়) | পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আটক বা অপহৃত—সূত্রভেদে ভিন্ন বর্ণনা। |
| পরবর্তী সময় | আর কখনো তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি; শহীদ সাংবাদিক হিসেবে স্মরণীয়। |
তথ্যসূত্র
১। রশীদ হায়দার (সম্পা.), স্মৃতি: ১৯৭১, পুনর্বিন্যাসকৃত দ্বিতীয় খণ্ড, বাংলা একাডেমি, ঢাকা। (গোলাম তাহাবুরের স্মৃতিচারণ “আমার সহকর্মী”।)
২। বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (PIB), Martyred Journalists — Abul Bashar Chowdhury অধ্যায়।
৩। প্রথম আলো, শহীদ সাংবাদিক আবুল বাশার চৌধুরী বিষয়ক প্রতিবেদন।
৪। অন্যান্য গবেষণা, স্মৃতিচারণ ও ঐতিহাসিক প্রকাশনা (প্রয়োজনে ভবিষ্যতে সংযোজনযোগ্য)।
সর্বশেষ তথ্য হালনাগাদ: ১৬ আগস্ট ২০২৬
তথ্য হালনাগাদে সহযোগিতা করুন
আবুল বাশার চৌধুরী সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য, ছবি, ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ, সরকারি নথি বা সংশোধনী থাকলে FoEBD-কে জানান।
📧 ই-মেইল: info@foebd.org
📱 মোবাইল/হোয়াটসঅ্যাপ: +৮৮০৩৪১১১০২৮২





