বরিশাল নগরীতে সংঘর্ষের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে। নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের এন্ডি (এন্ডবি) পুল এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় ঘটনাটি ঘটে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আক্রান্ত সাংবাদিক হলেন দৈনিক বরিশাল মুখপত্র-এর বার্তা সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুরাদ এবং যুগ্ম বার্তা সম্পাদক সাইফুল অপূর্ব। তাঁরা সংঘর্ষের দৃশ্য ধারণ করছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, একপর্যায়ে তাঁদের ঘিরে ধরে মারধর ও হেনস্তা করা হয়। তাঁদের সাংবাদিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। তাঁদের মোবাইল ফোন নিয়ে সংঘর্ষের সময় ধারণ করা ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের ব্যবহৃত বুমও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের দাবি, সংঘর্ষের দৃশ্য যাতে প্রকাশ না পায়, সে কারণেই ভিডিওগুলো মুছে দেওয়া হয়।
স্থানীয় প্রতিবেদনে হামলার সঙ্গে বিএনপি নেতা বাবুল মোহরীর নেতৃত্বের অভিযোগ করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজনের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর বরিশাল সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটির বিবৃতিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার কথা বলা হয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে
বরিশালের ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সাংবাদিকদের ধারণ করা ছবি ও ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগ এসেছে। আগস্টে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ছবি ধারণের সময় এক সাংবাদিককে মারধর করে তাঁর মোবাইলের ফুটেজ মুছে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়। একই মাসে রাজশাহীর তানোরে তথ্য সংগ্রহের সময় এক সাংবাদিকের মোবাইল নিয়ে ছবি ও ভিডিও অন্যত্র স্থানান্তর এবং কিছু ফুটেজ মুছে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ২৯ সেপ্টেম্বর সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও সংঘর্ষের ছবি ও তথ্য সংগ্রহের সময় সাংবাদিক আইনুল হকের মোবাইল থেকে ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলতে বাধ্য করার অভিযোগ ওঠে।
সংবাদ সংগ্রহের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
সাংবাদিকের কাজের মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে তথ্য, ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করা রয়েছে। সংঘর্ষ বা উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে এই কাজ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু সাংবাদিকের ধারণ করা উপাদান মুছে দেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরেকটি প্রশ্ন—কোনো ঘটনার প্রত্যক্ষ দৃশ্য জনসমক্ষে আসা ঠেকাতে কি সংবাদ সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া হচ্ছে? বরিশালের ঘটনায় এই প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে।
পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা তাঁদের ধারণ করা সংবাদ উপাদান মুছে দেওয়ার অভিযোগ সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতা ও সাংবাদিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়।
তথ্যসূত্র:
- বরিশাল বাণী — দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা ও ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগ
- তালাশ বিডি — বরিশালের ঘটনার প্রতিবেদন
- বরিশাল সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির প্রতিবাদ
- সিলেট ভয়েস — সিকৃবিতে সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ
- রাজশাহীতে সাংবাদিকের ফুটেজ মুছে দেওয়ার অভিযোগ
- রাজশাহীর তানোরে সাংবাদিকের ছবি-ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগ





