সৈয়দ মেরাজুল হোসেন ছিলেন সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের সাংবাদিকতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তাঁর সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিল বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দ্য ডেইলি অবজারভার এবং ডেইলি সান। তিনি দীর্ঘদিন বাসসের ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উত্তরাঞ্চলে ইংরেজি ভাষায় সংবাদ ও ফিচার লেখা এবং সম্পাদনায় তাঁকে পথিকৃৎ হিসেবে উল্লেখ করেছে বাসস। ২০০৪ সালের একটি IUCN প্রকাশনাতেও তাঁকে The Bangladesh Observer and BSS-এর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৈয়দ মেরাজুল হোসেন ছিলেন ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য। তিনি প্রেসক্লাবের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। তাঁর সময়ে প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্রে একজন ব্যক্তির দুই মেয়াদের বেশি সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক না থাকার বিধান যুক্ত করা হয়।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর তিনি জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা নেন বলে তাঁর দাফনসংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের জনস্বার্থের বিভিন্ন দাবিতেও তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। জেলায় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি, কৃষক ও শ্রমিকের অধিকার এবং নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়েও তিনি কাজ করেছেন।
মুক্তিযুদ্ধেও তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে তাঁকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি এলাকায় সংগঠকের ভূমিকাতেও ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
রাজনৈতিক জীবনেও সৈয়দ মেরাজুল হোসেন সক্রিয় ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি ছিলেন। সিপিবির মুখপত্র একতার শোকসংবাদে তাঁকে কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ও ঠাকুরগাঁও জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা, শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ এবং জনস্বার্থের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
সৈয়দ মেরাজুল হোসেন দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ১৯ জুন ২০২৬, শুক্রবার দুপুরে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। ২০ জুন তাঁকে ঠাকুরগাঁওয়ে নেওয়া হয়। সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবে সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরে জানাজা শেষে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।
সৈয়দ মেরাজুল হোসেনের জীবন সাংবাদিকতার পাশাপাশি শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্থানীয় জনস্বার্থের নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাঁর দীর্ঘ পথচলা ঠাকুরগাঁওয়ের সাংবাদিকতা ও জনজীবনের ইতিহাসেরও একটি অংশ।
তথ্যসূত্র
- বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) — Veteran journalist Syed Merajul Hossain passes away
- বাসস বাংলা — প্রবীণ সাংবাদিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেরাজুল হোসেন মারা গেছেন
- যায়যায়দিন — বিশিষ্ট সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষাবিদ সৈয়দ মেরাজুল হোসেন আর নেই
- প্রথম আলো — ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে মানববন্ধন
- IUCN — ২০০৪ সালের প্রকাশনা, যেখানে তাঁকে The Bangladesh Observer ও BSS-এর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে
- একতা — সিপিবির শোকসংবাদ
- ঢাকাটাইমস — ঠাকুরগাঁওয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক মেরাজুলের দাফন





